বেলুচিস্তানে পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নিল বিদ্রোহীরা

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৬:১৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০২৬

পাকিস্তানের অশান্ত বেলুচিস্তানে বালোচ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। একই সময়ে প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটায় পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) বেলুচিস্তানের পাঞ্জগুর জেলার চিদগি এলাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে বালোচ বিদ্রোহীদের তুমুল লড়াই চলছে বলে জানা গেছে। অভিযানের বিস্তারিত ও হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত ৮ আগস্ট রাতে কোয়েটার কাম্বারানি রোডে সশস্ত্র বিদ্রোহীরা পুলিশের ‘ঈগল স্কোয়াডের’ সদস্যদের পথরোধ করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলিও হয়। এতে একজন পুলিশ কর্মকর্তা সামান্য আহত হন। পুলিশের অভিযোগ, বিদ্রোহীরা কয়েকজন পুলিশ সদস্যের হাত বেঁধে তাদের অস্ত্র নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর কোয়েটায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে বেলুচিস্তানকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও তীব্র হচ্ছে। ১১ আগস্টকে পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে বালোচ বিদ্রোহীরা—এমন দাবি করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে। এর মধ্যেই প্রদেশটির বিভিন্ন এলাকায় মর্টার শেল নিক্ষেপ ও সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে আসছে **বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)**সহ বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী। তাদের দাবি, প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ বেলুচিস্তানের সম্পদের ওপর স্থানীয় জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখে এবং তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে।

বিশেষ করে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (CPEC) ঘিরে বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চীনা নাগরিক ও প্রকল্পগুলোকে লক্ষ্য করে অতীতেও বিভিন্ন হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।

বেলুচিস্তান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে বালোচ অধিকারকর্মীরা। পাকিস্তান সরকার অবশ্য এসব অভিযোগের অনেকগুলোই অস্বীকার করে এবং সশস্ত্র বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযানকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রয়োজন হিসেবে তুলে ধরে।

সব মিলিয়ে, সেনাবাহিনীর নতুন অভিযান, পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া এবং স্বাধীনতার দাবিকে ঘিরে বেলুচিস্তানে নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।