প্রশ্ন ফাঁস ও দুর্নীতির অভিযোগে ঝাড়খন্ডে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৪:১২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২৬

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে। এবার প্রশ্ন ফাঁস, দুর্নীতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঝাড়খন্ডে বিক্ষোভ শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা।

‘জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্ম মঞ্চ’-এর ব্যানারে রাজ্যের রাজধানী রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে টানা ১৬ দিন ধরে এই বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো সাত দিন ধরে আমরণ অনশন করছেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ঝাড়খন্ডের সরকারি চাকরির বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মের ঘটনা ঘটছে। এসব অনিয়ম বন্ধ করে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবিতে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য রাজ্য সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটি ইতোমধ্যে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পাঁচ দফা বৈঠক করেছে। শনিবার আলোচনার অগ্রগতি মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেনকে জানানো হয়েছে। রোববার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ষষ্ঠ দফায় আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।

তবে বিতর্কিত পরীক্ষাগুলো বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় অচলাবস্থা কাটেনি। দাবি পূরণ না হলে ঝাড়খন্ড বিধানসভা ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঝাড়খন্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (জেপিএসসি) ১৪তম সম্মিলিত সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ব্যাপক জালিয়াতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। শিক্ষার্থীরা ওই পরীক্ষা বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ঝাড়খন্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (জেএসএসসি) সিজিএল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগও উঠেছিল। সিআইডির তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি করা হলেও রাজ্য সরকারের পরবর্তী একটি কমিটি ওই পরীক্ষাকে দায়মুক্তি দেয় বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। এতে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।

আন্দোলনকারীরা ২০১৯ সালের পর অনুষ্ঠিত সব বিতর্কিত পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিয়োগ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ‘পরীক্ষা মাফিয়া’ ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করতে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন তারা।

তদন্ত প্রক্রিয়া তদারকির জন্য ঝাড়খন্ডের বাইরে অন্য কোনো রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্ট বিচারপতিদের নিয়ে একটি স্বাধীন প্যানেল গঠনের দাবিও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এ ছাড়া প্রতিটি শ্রেণির জন্য নির্দিষ্ট কাট-অফ নম্বর প্রকাশ, ওএমআর শিট ও রেসপন্স শিটের অনুলিপি সরবরাহ এবং ঝাড়খন্ডের সব নিয়োগ পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ বার্ষিক পরীক্ষার ক্যালেন্ডার প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

সরকারের গঠিত কমিটির সদস্য ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী দীপিকা পাণ্ডে সিং জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে উঠে আসা বিভিন্ন দাবি ও মতামত মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ যৌক্তিক এবং সরকার তা সমাধানের জন্য প্রস্তুত। তাদের দাবিগুলো নিয়ে দ্রুত একটি সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।

এর আগে ভারতের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন হয়েছে। ঝাড়খন্ডের সাম্প্রতিক বিক্ষোভও সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে।