যুক্তরাজ্যের ভিসার অপব্যবহারে রেকর্ড পাকিস্তানিদের

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৮:১৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০২৬

বৈধ ভিসায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করার প্রবণতা পাকিস্তানি নাগরিকদের মধ্যে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে দেশটির অভিবাসন ও ভিসাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সরকারের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্টুডেন্ট, ওয়ার্ক ও ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পর পাকিস্তানি নাগরিকদের আশ্রয়ের আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্বের ১৭৫টি দেশকে পেছনে ফেলে বর্তমানে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের সবচেয়ে বড় উৎস পাকিস্তান।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে মোট আশ্রয় আবেদনের প্রায় প্রতি ১০টির একটি পাকিস্তানি নাগরিকের। ২০২২ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পাশাপাশি বৈধ ভিসা ব্যবহার করে দেশটিতে ঢোকার পর আশ্রয়ের আবেদন করার প্রবণতাও এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

এ ক্ষেত্রে ‘ভিসা সুইচিং’ নামে পরিচিত একটি প্রবণতার কথা উঠে এসেছে। পর্যটক, শিক্ষার্থী বা অস্থায়ী কর্মী হিসেবে ভিসা নিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পর দেশটিতে আশ্রয়ের আবেদন করছেন অনেকে।

গত বছর স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাজ্যে গিয়ে পড়াশোনা ছেড়ে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন ৫ হাজার ৮৮৮ জন পাকিস্তানি নাগরিক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংখ্যা ভারত ও বাংলাদেশের এমন আবেদনকারীদের সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি।

এ ছাড়া ওয়ার্ক ও ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করার ক্ষেত্রেও পাকিস্তান শীর্ষ দেশগুলোর একটি। ২০২৪ সালে সাময়িক ভিসায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশকারীদের মোট আশ্রয় আবেদনের ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ এ ধরনের ভিসাধারীদের কাছ থেকে এসেছে।

অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকসের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জেমি জেনকিন্স পরিস্থিতিটিকে অভিবাসন ব্যবস্থার ‘পদ্ধতিগত ব্যর্থতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, যুক্তরাজ্যের ভিসা ব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

শ্যাডো হোম সেক্রেটারি ক্রিস ফিলিপও ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, শিক্ষার্থী বা পর্যটক ভিসাকে আশ্রয় পাওয়ার বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

এদিকে যুক্তরাজ্য সরকার ভিসাব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন নীতি গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ‘ভিসা সুইচিং’-এর মাধ্যমে আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (আইএলআর) পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। তাদের অভিবাসন স্ট্যাটাসও নির্দিষ্ট সময় পরপর পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।