জার্মানিতে এএফডির উত্থান, অভিবাসীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

জার্মানির পূর্বাঞ্চলে কট্টর ডানপন্থি দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)–এর রাজনৈতিক উত্থান অভিবাসীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। মেকলেনবুর্গ-ওয়েস্টার্ন পোমেরানিয়ার নির্বাচনে দলটি সবচেয়ে বড় দল হতে পারে বলে বিভিন্ন জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে স্যাক্সনি-আনহাল্টে বড় ধরনের নির্বাচনী সাফল্য পেয়েছে দলটি।

এএফডি অভিবাসন সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দলটির রাজনীতিতে ‘রিমাইগ্রেশন’ বা বিদেশিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। এমন রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রভাব নিয়ে দেশটির অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

সিরিয়ার যুদ্ধ থেকে পালিয়ে প্রায় এক দশক আগে জার্মানিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন শাহদ নাজীব। বর্তমানে রোস্টকের একটি ছোট ফ্ল্যাটে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। স্কুলে খাবার পরিবেশন করেন শাহদ। তার স্বামী মাহমুদ হামুয়েচ কাজ করেন নরসুন্দরের দোকানে। তাদের দুই সন্তান স্থানীয় স্কুলে পড়ছে।

শাহদ বলেন, জার্মানিতে জীবন গড়ে তোলার পরও সাম্প্রতিক সময়ে বৈষম্য ও অপমানের অভিজ্ঞতা তাকে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে বাধ্য করছে। বাইরে বের হলে কখনো কখনো শুনতে হয়, ‘এই দেশ জার্মানদের জন্য।’

রয়টার্স রোস্টক ও শভেরিন শহরে অভিবাসী পটভূমির ২০ জনের সাথে কথা বলেছে। তাদের বেশিরভাগই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈষম্য বেড়েছে বলে জানিয়েছেন। কেউ গালিগালাজের শিকার হয়েছেন, আবার কেউ প্রতিবেশীর কাছ থেকে নোংরা পানি ছিটানোর মতো অপমানের মুখোমুখি হয়েছেন।

এ ধরনের অভিজ্ঞতায় কেউ কেউ শহর ছেড়ে যাওয়ার কথাও ভাবছেন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পর্যটন ও খাদ্যসেবা খাতে কাজ করা অভিবাসীরা বলছেন, বৈষম্যের পরিবেশ অব্যাহত থাকলে তাদের জন্য সেখানে টিকে থাকা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পূর্ব জার্মানিতে জনসংখ্যা কমছে এবং জন্মহারও নিম্নমুখী। ফলে বিভিন্ন খাতে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন বাড়ছে। মেকলেনবুর্গ-ওয়েস্টার্ন পোমেরানিয়ায় বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার অভিবাসী পটভূমির মানুষ কাজ করছেন। জার্মানির শ্রম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ৩ লাখের বেশি সিরীয় নাগরিক কর্মরত রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিতর্কেও অভিবাসন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নেতা মানুয়েলা শভেসিগ এএফডির বিরুদ্ধে ভয় ছড়ানোর অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, যারা জার্মানিতে কাজ করছেন ও কর দিচ্ছেন, তাদের নিরাপদ বোধ করা উচিত।

তবে এএফডি প্রার্থী লেইফ-এরিক হোমের বক্তব্য, অবৈধ অভিবাসনই সমস্যার মূল।

এদিকে শাহদ নাজীবের সন্তান একদিন তাকে প্রশ্ন করেছিল, “মা, তিনি কেন তোমাকে গালি দিলেন?” প্রশ্নটির কোনো উত্তর দিতে পারেননি শাহদ। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও এখন তার উদ্বেগ বাড়ছে।

শাহদের স্বামী মাহমুদ হামুয়েচ বলেন, “পরিবারই সবার আগে। আমি চাই না আমার সন্তানরা এমন সমাজে বড় হোক, যেখানে তারা প্রত্যাখ্যাত হবে।”

জার্মানির পূর্বাঞ্চলে এএফডির রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ার পাশাপাশি অভিবাসন ও বৈষম্য নিয়ে বিতর্কও তীব্র হচ্ছে। একদিকে শ্রমবাজারে অভিবাসীদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে, অন্যদিকে অভিবাসী সম্প্রদায়ের একটি অংশ নিরাপত্তা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।