নিউজিল্যান্ডে শিক্ষা শেষে কাজের পথ: সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা

মহিবুল ইসলাম মাসুম

মহিবুল ইসলাম মাসুম

প্রকাশিত: ১১:৪০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

বিদেশে উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্ত এখন শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের বিষয় নয়। শিক্ষার্থীরা দেখতে চান, পড়াশোনা শেষে কর্মজীবনে প্রবেশের পথ কতটা সহজ এবং সেই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে কীভাবে কাজে লাগবে। নিউজিল্যান্ডের নতুন ভিসা নীতি এই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে।

আগামী ১৬ নভেম্বর ২০২৬ থেকে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার পরিধি বাড়ছে। একই দিন চালু হবে সর্বোচ্চ ছয় মাস মেয়াদি শর্ট-টার্ম গ্র্যাজুয়েট ওয়ার্ক ভিসা। নির্দিষ্ট লেভেলের কোর্স সম্পন্নকারীরা পড়াশোনা শেষে দেশটিতে কাজ করার অনুমতি পাবেন।

এর ফলে শিক্ষা ও কর্মবাজারের মধ্যে একটি কার্যকর সংযোগ তৈরি হতে পারে। একজন শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা শেষ করে বাস্তব কর্মক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। অন্যদিকে নিয়োগকর্তারাও নতুন গ্র্যাজুয়েটদের দক্ষতা ও যোগ্যতা কাজে লাগানোর সুযোগ পাবেন।

তবে নতুন ব্যবস্থাকে স্থায়ীভাবে নিউজিল্যান্ডে থাকার সহজ পথ হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। শর্ট-টার্ম ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ ছয় মাস। এটি একবারের বেশি নেওয়া যাবে না এবং মেয়াদ বাড়ানোর ব্যবস্থাও নেই। নিজস্ব ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না; সঙ্গী বা সন্তানদের জন্য নির্দিষ্ট ডিপেনডেন্ট ভিসার আবেদনও করা যাবে না।

অর্থাৎ নীতিটির মূল বৈশিষ্ট্য হলো—শিক্ষা শেষে কর্মঅভিজ্ঞতার পথ কিছুটা বিস্তৃত হচ্ছে, কিন্তু অভিবাসনের নিয়ন্ত্রণও কঠোরভাবে বজায় থাকছে।

এখানে শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোর্স নির্বাচন। লেভেল ৭ গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমাসহ নির্দিষ্ট যোগ্যতার ক্ষেত্রে পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা প্রযোজ্য হলেও সব কোর্স একই সুবিধার আওতায় পড়বে না। তাই ভর্তি হওয়ার আগেই কোর্সের স্তর, মেয়াদ এবং সংশ্লিষ্ট ভিসার যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।

আর্থিক প্রস্তুতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। শর্ট-টার্ম ভিসার আবেদনকারীর জীবনযাপনের খরচ বহনের জন্য কমপক্ষে ৫ হাজার নিউজিল্যান্ড ডলার থাকতে হবে। অর্থাৎ ভিসা হাতে পাওয়ার পরই চাকরি নিশ্চিত—এমন নিশ্চয়তা নেই। সম্ভাব্য কর্মসংস্থান, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ভিসার মেয়াদ বিবেচনায় নিয়েই পরিকল্পনা করতে হবে।

নিউজিল্যান্ডের জন্য এই নীতির আরেকটি দিক হলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দক্ষতাকে স্থানীয় শ্রমবাজারের সাথে যুক্ত করা। একই সাথে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার মাধ্যমে সরকার অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখছে।

তবে নীতিটির বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে প্রয়োগের ওপর। নতুন গ্র্যাজুয়েটরা কতটা দ্রুত কাজ খুঁজে পান, কোন খাতে তাদের চাহিদা তৈরি হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরবর্তী বৈধ ভিসার পথ তৈরি করতে পারেন কি না—এসব বিষয়ই এর কার্যকারিতা বোঝাবে।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাই মূল শিক্ষা একটাই—শুধু বিদেশে পড়াশোনা করলেই পরবর্তী ধাপ নিশ্চিত হয় না। কোন কোর্স বেছে নেওয়া হচ্ছে, সেটির ভিসা-যোগ্যতা কী, পড়াশোনা শেষে কর্মবাজারে চাহিদা কেমন এবং পরবর্তী বৈধ অভিবাসন পথ কী—এসব প্রশ্নের উত্তর আগে খুঁজতে হবে।

নিউজিল্যান্ডের নতুন নীতি শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মজীবনে প্রবেশের একটি নতুন দরজা খুলছে। কিন্তু সেই দরজা স্থায়ী বসবাসের নিশ্চয়তা নয়। সঠিক কোর্স নির্বাচন, আর্থিক প্রস্তুতি এবং বাস্তবসম্মত ক্যারিয়ার পরিকল্পনাই নির্ধারণ করবে—এই পরিবর্তন একজন শিক্ষার্থীর জন্য কতটা কার্যকর হবে।

 

সম্পাদক, ডেল্টা টিভি

সাবেক ইমিগ্রেশন ভিসা টিম লিডার, আমেরিকান দূতাবাস ঢাকা