ডিভি লটারি: বাংলাদেশিদের আবেদনের সুযোগ কি ফিরছে?
মহিবুল ইসলাম মাসুম
প্রকাশিত: ১:০০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি নিয়ে আগ্রহ রয়েছে অনেক বাংলাদেশির। সর্বশেষ ডিভি লটারি ২০২৬-এর যোগ্য দেশের তালিকায় বাংলাদেশ না থাকায় আবেদন করার সুযোগ পাননি বাংলাদেশিরা। তবে ডিভি লটারি ২০২৭-এর নিবন্ধন নিয়ে নতুন আইনি নির্দেশনার পর আবারও প্রশ্ন উঠেছে—বাংলাদেশিরা কি এবার আবেদনের সুযোগ পাবেন?
এখন পর্যন্ত এ প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর পাওয়া যায়নি। ডিভি লটারি ২০২৭-এর যোগ্য দেশের তালিকা ও আবেদনসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রকাশিত না হওয়ায় বাংলাদেশের নাগরিকেরা অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
নিবন্ধন শুরুর বিষয়ে আদালতের নির্দেশ
ডিভি লটারি ২০২৭-এর নিবন্ধনপ্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় একটি অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান আদালতের দ্বারস্থ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত নিবন্ধনপ্রক্রিয়া চালুর নির্দেশ দেন।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশনায় ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদনপ্রক্রিয়া চালুর কথা বলা হয়েছে। নিবন্ধন অন্তত ৩০ দিন চালু রাখার নির্দেশও রয়েছে। নির্বাচিতদের বিষয়ে নোটিশ দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ ডিসেম্বর।
তবে বিষয়টি এখনো আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আমেরিকার সরকার আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে এবং নির্দেশটি স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছে। ফলে নিবন্ধন কবে শুরু হবে, তা নির্ভর করছে পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত ও সরকারি ঘোষণার ওপর।
বাংলাদেশিদের সুযোগ ফিরবে কি?
বাংলাদেশিরা এবার আবেদন করতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করছে ডিভি লটারি ২০২৭-এর যোগ্য দেশের তালিকার ওপর। সংশ্লিষ্ট বছরের নির্দেশনায় কোন কোন দেশের নাগরিকেরা আবেদন করতে পারবেন, তা উল্লেখ করা হয়।
ডিভি লটারি ২০২৬-এর যোগ্য দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ছিল না। তবে আগের বছরের তালিকার ভিত্তিতে পরবর্তী বছরের যোগ্যতা নিশ্চিত করা যায় না। তাই নতুন নির্দেশনা প্রকাশের আগে বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারবেন কিংবা পারবেন না—কোনোটিই চূড়ান্তভাবে বলা ঠিক হবে না।
আবেদন করতে আগ্রহীদের আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য বা অনানুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটের দাবির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
ডিভি লটারিতে নির্বাচিত হলেই কি গ্রিন কার্ড?
ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো ঐতিহাসিকভাবে আমেরিকায় কমসংখ্যক অভিবাসী পাঠানো দেশগুলোর যোগ্য নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের ভিসা পাওয়ার সুযোগ দেওয়া। এ কর্মসূচিতে বছরে সর্বোচ্চ প্রায় ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসার বিধান রয়েছে।
তবে লটারিতে নির্বাচিত হওয়া মানেই গ্রিন কার্ড পাওয়া নয়। নির্বাচিত ব্যক্তিকে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা অথবা যোগ্য কাজের অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ করতে হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথি জমা, মেডিকেল পরীক্ষা, ভিসা সাক্ষাৎকার এবং অন্যান্য প্রযোজ্য ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। সব শর্ত যাচাইয়ের পরই ভিসা দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আবেদন করতে হলে যা জানা জরুরি
নিবন্ধন চালু হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি পোর্টালে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রে নাম, জন্মতারিখ, ছবি ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য নির্ভুলভাবে দেওয়া জরুরি। একাধিক আবেদন জমা দিলে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আবেদন জমা দেওয়ার পর পাওয়া নিশ্চিতকরণ নম্বরটি সংরক্ষণ করতে হবে, কারণ পরবর্তী সময়ে আবেদনের অবস্থা যাচাই করতে এটি প্রয়োজন হবে।
আবেদন ফি, ছবির শর্ত, যোগ্যতা ও অন্যান্য নিয়মের ক্ষেত্রে পুরোনো তথ্যের ওপর নির্ভর না করে ডিভি লটারি ২০২৭-এর আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকুন
ডিভি লটারিতে নির্বাচিত করে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে কেউ অর্থ চাইলে সতর্ক থাকুন। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান লটারিতে নির্বাচিত হওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। নিবন্ধন শুরু হয়েছে বলে দাবি করা কোনো অননুমোদিত ওয়েবসাইটে যাচাই ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ দেওয়া উচিত নয়।
বাংলাদেশিদের আবেদনের সুযোগ ফিরবে কি না, তা জানতে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ডিভি লটারি ২০২৭-এর চূড়ান্ত নির্দেশনা প্রকাশ। এর আগে বাংলাদেশিদের জন্য আবেদন উন্মুক্ত হয়েছে—এমন দাবি নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়।
সরকারি তথ্যসূত্র:
সম্পাদক, ডেল্টা টিভি
সাবেক ইমিগ্রেশন ভিসা টিম লিডার, আমেরিকান দূতাবাস ঢাকা


