রাড্ডার ঘটনা: দলীয় কঠোরতার পর এবার আইনের প্রয়োগ জরুরি
মহিবুল ইসলাম মাসুম
প্রকাশিত: ২:৫৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০২৬
মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা এখন শুধু একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়। এটি প্রশ্ন তুলেছে- রাজনৈতিক পরিচয়, দলীয় শৃঙ্খলা আর আইনের শাসনের সম্পর্ক নিয়ে।
ঘটনার পর বিএনপির পক্ষ থেকে এসেছে একাধিক সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত। কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিও পদত্যাগ করেছেন।
এসব সিদ্ধান্তের পর স্বাভাবিকভাবেই একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে-এরপর কী?
কারণ, দলীয় শাস্তি আর আইনি শাস্তি এক বিষয় নয়।
কোনো রাজনৈতিক দল তার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু কেউ অপরাধ করেছেন কি না, সেটি নির্ধারণ করবে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া।
তাই রাড্ডার ঘটনায় এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্ত।
কারা হামলা করেছে?
কারা ভাঙচুর বা লুটপাটে যুক্ত ছিল?
কারও নির্দেশ, সহযোগিতা বা ইন্ধন ছিল কি না?
এসব প্রশ্নের উত্তর বের করতে হবে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে।
আবার শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী বলাও ঠিক হবে না। রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, প্রত্যেকের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে।
তবে রাজনৈতিক পরিচয় যেন তদন্ত থেকে কাউকে রক্ষা করার ঢালও না হয়-এটিও নিশ্চিত করতে হবে।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আরেকটি দিকও ভুলে গেলে চলবে না। এটি মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবার সাথে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। হামলার কারণে সাধারণ মানুষ যদি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে এর দায় কে নেবে?
তাই শুধু অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবা দ্রুত স্বাভাবিক করাও জরুরি।
আর রাজনৈতিক দলের জন্যও এখানে একটি বড় পরীক্ষা আছে।
আজ রাড্ডার ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হলো। কিন্তু আগামী দিনে অন্য কোনো এলাকায় একই ধরনের অভিযোগ উঠলে কী হবে?
ব্যবস্থা কি সবার ক্ষেত্রে একই হবে?
নাকি রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব কিংবা স্থানীয় ক্ষমতার ওপর সিদ্ধান্ত বদলে যাবে?
মানুষ এখন এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইবে।
কারণ শুধু বহিষ্কার বা কমিটি বিলুপ্ত করাই শেষ কথা নয়। প্রকৃত জবাবদিহি নিশ্চিত হয় তখনই, যখন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হয়, অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ প্রতিকার পান।
রাড্ডার ঘটনা তাই একটি রাজনৈতিক দলের জন্য যেমন শৃঙ্খলার পরীক্ষা, তেমনি সরকারের জন্যও আইনের সমান প্রয়োগের পরীক্ষা।
রাজনৈতিক পরিচয় কারও অপরাধের প্রমাণ নয়। আবার রাজনৈতিক পরিচয় কারও দায়মুক্তির কারণও হতে পারে না।
এখন প্রয়োজন উত্তেজনা নয়।
প্রয়োজন তদন্ত।
প্রয়োজন প্রমাণ।
প্রয়োজন সবার জন্য সমান আইন।
রাড্ডার ঘটনায় মানুষ শেষ পর্যন্ত সেটিই দেখতে চাইবে- দলীয় সিদ্ধান্তের পর সত্যিই কি জবাবদিহি নিশ্চিত হয়?
সম্পাদক, ডেল্টা টিভি
সাবেক ইমিগ্রেশন ভিসা টিম লিডার, আমেরিকান দূতাবাস ঢাকা


