বিদেশগামী কর্মীদের হয়রানি বন্ধে দালালচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চান রাষ্ট্রপতি
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:০২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও নিরাপদ ও সহজ করতে অভিবাসন ব্যয় কমানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিদেশে যেতে অনেক কর্মী জমি বিক্রি করেন, ঋণ নেন এবং পরিবারের সঞ্চয় ব্যয় করেন। এরপরও তাঁদের অনেককে প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, অনিশ্চিত চাকরি ও চুক্তি অনুযায়ী বেতন না পাওয়ার মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
শ্রমিকবান্ধব দূতাবাসের তাগিদ
রাষ্ট্রপতি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার সুরক্ষায় বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর ভূমিকা আরও জোরদার করতে হবে। দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলোকে আরও শ্রমিকবান্ধব হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতির মতে, বিদেশগামী প্রত্যেক কর্মীকে যাত্রার আগে চাকরির চুক্তি, বেতন, কর্মপরিবেশ ও আইনি অধিকার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের অবদান
রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাকশিল্পকে দেশের অর্থনীতির প্রধান দুই চালিকাশক্তি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বৈদেশিক মুদ্রার জোগান, আমদানি ব্যয় পরিশোধ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এই অর্থ লাখো পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে।
দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের পরিবর্তিত চাহিদা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমানে কারিগরি দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, নার্সিং, বয়স্কদের পরিচর্যা, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিকস প্রযুক্তি এবং আধুনিক নির্মাণশিল্পে দক্ষ কর্মীর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
তিনি নারী অভিবাসীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
‘অভিবাসন দশক’ ঘোষণার প্রস্তাব
বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও ফলাফলভিত্তিক জাতীয় কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। এ ক্ষেত্রে ‘অভিবাসন দশক’ ঘোষণার প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
বিদেশে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে বাংলাদেশের অতীত উদ্যোগগুলোর কথাও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় তিনি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সম্মাননা পাওয়া অভিবাসীদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, অভিবাসন খাতে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতেও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, মানবিক ও টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



