আইএমএফের পূর্বাভাস
২০২৭ সালে জাপানকে ছাড়িয়ে চতুর্থ অর্থনীতি হবে ভারত
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৭:৫৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে ভারত। ওই বছর ভারতের নামমাত্র মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৪.৫২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বিপরীতে, অর্থনীতির আকারের দিক থেকে জাপান ষষ্ঠ স্থানে নেমে যেতে পারে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত আইএমএফের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি বছর জাপান বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে অবস্থান ধরে রাখবে। তবে ২০২৭ সালে ভারত ও যুক্তরাজ্যের পেছনে পড়ে দেশটি ষষ্ঠ স্থানে চলে যেতে পারে।
ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ল
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে ভারত। চলতি সপ্তাহে আইএমএফ ২০২৬ সালের জন্য দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করেছে।
আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, চলতি বছর ভারতের অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি বেশ মজবুত ছিল। শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি দেশটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিচক্ষণতা দেখিয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গড়ে তুলেছে। ফলে চলমান অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দেওয়া ভারতের জন্য তুলনামূলক সহজ হয়েছে।
চাপে জাপানের অর্থনীতি
অন্যদিকে, জাপানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে কমে ০.৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। দেশটির ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনসংখ্যা ও বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতিও জাপানের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাবে ব্যাংক অব জাপান সুদের হার গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইয়েনের দরপততি ও আমদানি ব্যয়
দীর্ঘদিন মুদ্রাসংকোচনের সমস্যায় থাকা জাপানে ২০২২ সালের বসন্তকাল থেকে ভোক্তাপণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে শুরু করে। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সেই চাপ আরও বাড়িয়েছে।
এদিকে, ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েনের দর ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে দেশটির বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
এসব কারণে জাপানের অর্থনীতি যখন নানা চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে ভারত। আইএমএফের পূর্বাভাস সত্যি হলে ২০২৭ সালে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির তালিকায় জাপানকে পেছনে ফেলে চতুর্থ স্থানে উঠে আসবে দেশটি।



