আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশের তিন প্রস্তাব
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৭:৫৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে তিনটি প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রস্তাবগুলো হলো ফলাফলভিত্তিক খাতওয়ারি প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, অংশীজনদের সরাসরি অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে সহযোগিতা জোরদার করা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা তৈরির পদক্ষেপবিষয়ক সম্মেলনের (সিআইসিএ) সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
সিআইসিএকে শক্তিশালী করার আহ্বান
প্রতিমন্ত্রী সিআইসিএকে সুস্পষ্ট আইনি মর্যাদা, শক্তিশালী সচিবালয়, নির্ভরযোগ্য অর্থায়ন এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণব্যবস্থাসম্পন্ন পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক সংস্থায় রূপান্তরের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন জানান।
সদস্যদেশগুলোর মধ্যে কার্যকর অংশীদারি গড়ে তুলতে তিনি তিনটি প্রস্তাব দেন। প্রথমত, ফলাফলভিত্তিক খাতওয়ারি প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সেগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা চালু করা। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন অংশীজনের অংশগ্রহণ বাড়াতে আরও বেশি সরাসরি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। তৃতীয়ত, সদস্যদেশগুলোর আইসিটি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিনিময় জোরদার করা এবং আইসিটি ও এআইয়ের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিরাপদ, উন্মুক্ত ও আস্থাভিত্তিক ডিজিটাল পরিসর গড়ে তোলা।
সিআইসিএ সম্মেলনে বাংলাদেশের ওয়াকআউট
এদিকে সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য চলাকালে ওয়াকআউট করেছে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল ছাড়াও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা তাৎক্ষণিকভাবে সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য বয়কট করেন।
সিআইসিএর সদস্য ২৯ দেশ
‘শক্তিশালী সিআইসিএ: এশিয়ায় সংযোগ, ডিজিটাল রূপান্তর ও টেকসই প্রবৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্যে আজারবাইজানের সভাপতিত্বে সপ্তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ প্রতিপাদ্যে এশিয়ার জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
১৯৯৯ সালে এশিয়াজুড়ে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে গঠিত এ আঞ্চলিক ফোরামে লাও পিডিআরের যোগদানের মধ্য দিয়ে সদস্যদেশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯-এ।
সম্মেলনে ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সিআইসিএর সভাপতিত্বের দায়িত্ব আজারবাইজানের কাছে রাখার বিষয়টি অনুমোদন করা হয়েছে। পাশাপাশি সংস্থাটির পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে সুলতান হাজিয়েভের নিয়োগও অনুমোদন করা হয়।



