প্রবাসীদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২৬

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের অর্থ, সম্পত্তি ও পারিবারিক বিরোধসংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের কাজ খসড়া পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।

রামরু আয়োজিত অভিবাসনবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন আইনি জটিলতা নিরসনে বিশেষায়িত আদালত গঠনের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এসব আদালতে মূলত প্রবাসীদের মামলা ও বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে শ্রম আদালত থাকলেও প্রবাসীদের জন্য আলাদা কোনো আদালত নেই। ফলে বিদেশে অবস্থানরত অনেক বাংলাদেশিকে সম্পত্তি, অর্থ লেনদেন ও পারিবারিক বিরোধের মতো বিষয় নিয়ে বছরের পর বছর মামলা চালাতে হয়।

তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থান করে আইনজীবী নিয়োগ, আদালতে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং মামলা পরিচালনায় প্রবাসীদের বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে মামলা নিষ্পত্তির আগেই বাদীর মৃত্যু হয়। পরে তাঁর উত্তরাধিকারীদের মামলা চালিয়ে যেতে হয়।

আসাদুজ্জামান জানান, বিশেষ আদালত গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। জনমত যাচাই শেষে সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে বিষয়টি উপস্থাপনের চেষ্টা করা হবে।

আমিরাতে ভিসা বাতিল নিয়ে উদ্বেগ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা বাতিলের বিষয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার ভিসা বাতিল হয়েছে। আরও অনেকের ভিসা নবায়ন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

এ পরিস্থিতির জন্য কিছু অসাধু রিক্রুটিং ব্যবসায়ীকে দায়ী করে তিনি বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে এমন কিছু নথি জমা দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর সত্যতা আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা সনদ ও চাকরিসংক্রান্ত নথিও জমা দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, এসব জালিয়াতির কারণে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সাধারণ প্রবাসী শ্রমিকদের ওপরও।

প্রবাসীদের জন্য ২৪ ঘণ্টার আইনি সহায়তা

প্রবাসী বাংলাদেশি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ২৪ ঘণ্টার আইনি সহায়তা কর্মসূচি চালুর কথাও জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেসের মাধ্যমে প্রবাসীরা প্রাথমিক আইনি পরামর্শ পাবেন। এ কার্যক্রমে যুগ্ম জেলা জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তারাও দায়িত্ব পালন করবেন।

আইনি পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের মামলা পরিচালনার জটিলতা ও আদালতের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বেতনবৈষম্য

অনুষ্ঠানে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও বেতনবৈষম্যের বিষয়টিও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অনেক বাংলাদেশি শ্রমিককে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়। বাসস্থান, যাতায়াত ও মৌলিক সুবিধার ক্ষেত্রেও তাঁদের নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকতে হয়।

একই ধরনের কাজ করেও অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশি শ্রমিকেরা অন্যান্য দেশের কর্মীদের তুলনায় কম মজুরি পান বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ বৈষম্য কমানো এবং বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।