নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় সৌদি প্রবাসীরা, চাপে দেশটির ভাবমূর্তি

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৫৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম নিরাপদ ও স্থিতিশীল দেশ হিসেবে পরিচিত। তবে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলার খবর দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এতে সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি চাপের মুখে পড়েছে দেশটির স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তি।

উদ্বিগ্ন প্রবাসী পরিবার

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলাগুলোয় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রম একাধিকবার ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক যাতায়াত, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকেরা নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন।

রিয়াদে বসবাসরত কয়েকজন প্রবাসী জানিয়েছেন, আগে তারা সৌদি আরবকে পরিবারের জন্য নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচনা করতেন। কিন্তু দেশের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনাগুলোর একটি বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় তাদের সেই আস্থায় চিড় ধরেছে।

একজন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাসিন্দা জানান, পরিবার নিয়ে সৌদি আরবে থাকার ইচ্ছা থাকলেও হামলা অব্যাহত থাকলে স্ত্রী-সন্তানদের অন্য দেশে পাঠানোর কথা ভাবতে হতে পারে। আরেকজন প্রবাসীর ভাষ্য, হামলার খবর ও বিমানবন্দর বন্ধ হওয়ার ঘটনায় শিশুদের মধ্যেও ভয় তৈরি হয়েছে। ফলে পরিবারকে পরিস্থিতি বোঝানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় প্রভাবের আশঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, হামলার প্রভাব শুধু নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সৌদি আরবের অর্থনৈতিক পরিকল্পনাও এর কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্যটন, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে বহুমুখী করার চেষ্টা করছে সৌদি আরব। তবে বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার ঘটনা দেশটির স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার বার্তাকে দুর্বল করতে পারে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান সামনে রেখে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নও বাড়ছে।

বাংলাদেশি কর্মীদের উদ্বেগ

সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার। দেশটিতে কয়েক মিলিয়ন বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ইতোমধ্যে রিয়াদগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় বাংলাদেশি কর্মী ও ওমরাহযাত্রীদের অনেকে ভোগান্তিতে পড়েছেন। পরিস্থিতির অবনতি হলে যাতায়াত ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন আলোচনা

পর্যবেক্ষকদের মতে, ইয়েমেনের সংঘাত, হুতি হামলা, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও পরিবহন রুট নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

তবে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ব্যাপক হারে দেশত্যাগ বা চাকরি হারানোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে প্রবাসী শ্রমবাজারে চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।