নিরাপদ অভিবাসনে বাংলাদেশ-ইইউ সহযোগিতা জোরদারের সিদ্ধান্ত
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৪৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করা, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ এবং মানব পাচার ও অভিবাসী পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করবে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সঙ্গে ইউরোপে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবীদের বৈধভাবে কাজের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ।
গত ১২ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইইউর অভিবাসন ও স্বরাষ্ট্রবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনারের সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারসহ দুই পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইউরোপমুখী অনিয়মিত অভিবাসন কমাতে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবীদের জন্য ইইউ এবং এর সদস্য দেশগুলোতে চাহিদাভিত্তিক ও বাস্তবসম্মত বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো জরুরি।
শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসনবিষয়ক বৈশ্বিক চুক্তির (জিসিএম) লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। আইনগত প্রক্রিয়ায় দক্ষ জনশক্তি পাঠানো এ পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
অন্যদিকে, ইইউ কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার অনিয়মিত অভিবাসন মোকাবিলায় ‘ইস্টার্ন করিডোর ইনিশিয়েটিভ’-এর রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি জানান, অনিয়মিত অভিবাসনের উৎস, ট্রানজিট দেশ ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে অবৈধ প্রবেশ ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ অভিবাসনের পথ সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বৈঠকে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে বাংলাদেশের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, জাল ভ্রমণ নথি তৈরি ও ব্যবহার বন্ধে বিমানবন্দর এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, অনিয়মিত অভিবাসনের পেছনে থাকা অর্থনৈতিক কারণগুলো মোকাবিলা এবং বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোই এ সমস্যা সমাধানের দীর্ঘমেয়াদি উপায়।
বৈঠকে দুই পক্ষই অভিবাসন ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, মানব পাচার প্রতিরোধ এবং বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়।



