বিদেশে স্বপ্নের মৃত্যু, বাড়িতে সাহেদের জন্য কান্না
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৫:০৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২৬
পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন সাহেদ আহমেদ আশিক। স্বপ্ন ছিল প্রবাসে পরিশ্রম করে স্ত্রী-সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়বেন, দূর করবেন অভাব-অনটন। কিন্তু সেই স্বপ্নের পরিণতি যে এমন হবে, তা কে জানত! সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারান ৩৫ বছর বয়সী সাহেদ। শেষবারের মতো স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার কিছুক্ষণ পরই থেমে যায় তাঁর জীবনের পথচলা। শুক্রবার দেশে ফিরেছে তাঁর নিথর দেহ। স্বামীর মরদেহ দেখে স্ত্রী কাকলী বেগমের আহাজারি আর বাবাকে হারিয়ে দুই সন্তানের কান্নায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান সাহেদ। বিমানবন্দরে নেমে টার্মিনাল-৩ এলাকা থেকে স্ত্রী কাকলী বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন তিনি। সেই কথোপকথনের কিছুক্ষণ পরই ওই টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে সাহেদসহ বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান।
সাহেদের খালাতো ভাই মাসুম রানা বলেন, বিমানবন্দরে নেমে সাহেদ তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সব শেষ হয়ে যায়।
শুক্রবার সাহেদের মরদেহ ঢাকা থেকে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। মরদেহের সঙ্গে এসেছেন তাঁর স্ত্রী কাকলী বেগম ও তাঁদের দুই সন্তান। পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্থানীয় গোরস্থানে সাহেদের দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
সাহেদের মৃত্যুর শোক আরও গভীর হয়েছে পরিবারের অন্য সদস্যদের দূরে থাকার ঘটনায়। তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। আর ঘটনার সময় সাহেদের মা শাহেরা বেগম ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে ছিলেন। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে চার দিন আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন। যে ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে মায়ের মন ভরে ওঠার কথা ছিল, সেই ছেলের চিরবিদায়ের শোক এখন তাঁকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।
পরিবারের স্বপ্ন পূরণ ও স্বজনদের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় বিদেশে গিয়েছিলেন সাহেদ। কিন্তু তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে স্ত্রী কাকলী বেগম ও দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। স্বামীকে হারিয়ে দিশাহারা কাকলী, আর বাবাকে হারিয়ে দুই সন্তানের জীবনে তৈরি হয়েছে অপূরণীয় শূন্যতা।
সাহেদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রিয়জনদের কাছে ফিরে আসার যে স্বপ্ন নিয়ে তিনি দেশ ছেড়েছিলেন, সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। বিদেশের মাটিতে থেমে গেল তাঁর জীবনের পথচলা, আর বাড়িতে পড়ে রইল স্ত্রী-সন্তানদের কান্না, অপেক্ষা আর এক বুক শূন্যতা।



