কানাডায় বাংলাদেশিদের ২৪৩ ভিসা আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগ

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:৫০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২৬

কানাডায় অস্থায়ী ভিসার আবেদনে জালিয়াতি ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করেছে দেশটির সীমান্তসেবা সংস্থা (সিবিএসএ)। তদন্তে ২০৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের নামে জমা দেওয়া ২৪৩টি ভিসা আবেদনে জাল নথি ও তথ্য গোপনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

কানাডার স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের চারজন কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হয়েছেন। অন্য অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

অন্য চার অভিযুক্ত হলেন রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া ও কাজী নাফিজ আলম।

সিবিএসএর সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ার এলাকার একটি বাড়িতে তদারকিমূলক অভিযান চালানোর সময় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায়। পরে ওই বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়।

তদন্তের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি স্থানে তল্লাশি চালান গোয়েন্দারা। এ সময় বিভিন্ন নথিপত্র ও কম্পিউটার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। অনুসন্ধানে ২৪৩টি ভিসা আবেদনের মধ্যে ৭৯টি আবেদন বিশেষভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রধানত তিন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে—পরিকল্পিতভাবে অবৈধ উপায়ে কানাডায় প্রবেশে সহায়তা করা, ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়া ও তথ্য গোপন করা এবং দেশটির অভিবাসন আইন লঙ্ঘনে সরাসরি সহযোগিতা করা।

তবে অভিযোগগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান। আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের দোষী বলা যাবে না।

ঘটনার পর কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থা সততা, ন্যায়সংগত আচরণ ও আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতারণার মাধ্যমে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের কঠিন আইনি পরিণতির মুখে পড়তে হবে।’

সিবিএসএর কুইবেক অঞ্চলের মহাপরিচালক এরিক লাপিয়েরাও জানান, অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহারকারী সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে তাঁদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, ভিসার আবেদনে জাল নথি বা মিথ্যা তথ্য দেওয়া হলে আবেদন বাতিলের পাশাপাশি আবেদনকারীর ওপর অন্তত পাঁচ বছরের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

এ কারণে ভিসা নিশ্চিত করে দেওয়ার প্রলোভনে না পড়ে বিশ্বস্ত ও বৈধ উপায়ে আবেদন এবং সঠিক তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, এ ঘটনায় ২০৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের নামে জমা দেওয়া ২৪৩টি ভিসার আবেদন তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক আবেদনকারী জালিয়াতিতে জড়িত। একইভাবে, পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।