মালয়েশিয়ায় ধরপাকড় বাড়ছে, ঝুঁকিতে বাংলাদেশি প্রবাসীরা

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:১৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২৬

মালয়েশিয়াজুড়ে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের মধ্যে। নির্মাণ প্রতিষ্ঠান, কারখানা, রেস্তোরাঁ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে বিভিন্ন দেশের হাজারো বিদেশি নাগরিক আটক হচ্ছেন।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে ১১ হাজার ১১০টি অভিযান চালিয়ে ৬৫ হাজার ৬৯৯ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৫৩ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে আটক করা হয়েছে ১ হাজার ৯৬৬ জন নিয়োগকর্তাকেও।

এ সময়ে ৪৫ হাজার ৫৯৭ জন বিদেশিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে আটক ও প্রত্যাবাসিত ব্যক্তিদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।

পাঁচ দিনে আটক ২ হাজারের বেশি বিদেশি

অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে অভিযানের গতি আরও বেড়েছে। ১২ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র পাঁচ দিনে ২৫২টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫ হাজার মানুষের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। এ সময় ২ হাজার ১৫৬ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈধ ভিসা না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া, কর্মঅনুমতির শর্ত ভঙ্গ করা কিংবা সামাজিক ভিসায় প্রবেশ করে কাজ করার মতো বিষয়গুলো আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়। ফলে শুধু অবৈধভাবে প্রবেশকারীরাই নন, বৈধভাবে এসে পরবর্তী সময়ে নিয়ম ভঙ্গ করা কর্মীরাও অভিযানের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

আগের অভিযানে আটক ৩৬৪ বাংলাদেশি

সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকও আটক হয়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে কুয়ালালামপুরে পরিচালিত এক অভিযানে আটক ৪৭২ জন বিদেশির মধ্যে ৩৬৪ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। এ ছাড়া চলতি মাসে সেলাঙ্গরের পৃথক একটি অভিযানে আরও কয়েকজন বাংলাদেশি আটক হন।

অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, দালালচক্রের প্রতারণা, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, কর্মঅনুমতির জটিলতা কিংবা নিয়োগকর্তার গাফিলতির কারণে অনেক বাংলাদেশি কর্মী সমস্যায় পড়েন। তাই আটক হওয়া সব বাংলাদেশিকে একইভাবে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।

কারও ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যেতে পারে, কারও নথিতে ত্রুটি থাকতে পারে, আবার কেউ নিয়োগকর্তার অবহেলার কারণেও বিপদে পড়তে পারেন। তাই প্রতিটি ঘটনার পৃথকভাবে যাচাই করা জরুরি।

প্রবাসীদের জন্য পরামর্শ

সংশ্লিষ্টরা মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিদের নিয়মিত পাসপোর্ট, ভিসা, ইকামা ও ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন। কাগজপত্র নিয়ে কোনো সমস্যা দেখা দিলে দালালের পরিবর্তে সরাসরি বাংলাদেশ হাইকমিশন বা মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

প্রবাসী কমিউনিটির নেতাদের মতে, রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। তাঁদের সুরক্ষায় বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, প্রতারণাকারী দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংকটে পড়া শ্রমিকদের দ্রুত কনস্যুলার ও আইনি সহায়তা দেওয়া জরুরি।