বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি ক্রমাগত শক্তি সঞ্চয় করছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এটি নিম্নচাপ ও গভীর নিম্নচাপের ধাপ পেরিয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে পারে। বাংলাদেশে সরাসরি আঘাত হানার আশঙ্কা আপাতত কম থাকলেও এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বেসরকারি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের (বিডব্লিউওটি) পৃথক বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ধাপে ধাপে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার শঙ্কা

বিডব্লিউওটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হতে পারে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

সংস্থাটির প্রাথমিক পূর্বাভাস বলছে, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি আগামী ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে ২৮ অক্টোবর সকালের মধ্যে ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে পূর্বাভাসটি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ, শক্তি ও আঘাত হানার সময় পরিবর্তিত হতে পারে।

দেশে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশে সরাসরি আঘাত না হানলেও এর প্রভাবে আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর থেকে ১ ও ২ নভেম্বরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী বৃষ্টিবলয় সক্রিয় হতে পারে। এতে বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

সম্ভাব্য দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কৃষকদের জন্য সতর্কতা

সম্ভাব্য ভারী বৃষ্টিতে কৃষি খাতে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যেসব জমির ধান পেকে গেছে, সেগুলো ২৬ অক্টোবরের মধ্যে কেটে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে বিডব্লিউওটি।

এ ছাড়া শীতকালীন সবজি চাষ ও বীজতলা তৈরির পরিকল্পনা যাঁদের রয়েছে, তাঁদের বৃষ্টি না থামা পর্যন্ত এসব কাজ স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।