শান্তিচুক্তিতে ‘অগ্রগতি’: হরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ২:৫৭ অপরাহ্ণ, মে ৬, ২০২৬
ইরানের সাথে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হওয়ার প্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ বুধবার (৬ মে, ২০২৬) ভোরে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
স্থগিতের কারণ ও প্রেক্ষাপট
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেন, পাকিস্তান ও অন্যান্য বন্ধুরাষ্ট্রের বিশেষ অনুরোধ এবং ইরানের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার ইতিবাচক মোড় নেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তির দিকে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। এই চুক্তিটি স্বাক্ষর করা সম্ভব কি না, তা যাচাই করার জন্য ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে।”
নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে
সামরিক অভিযান স্থগিত করলেও ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণভাবে কার্যকর ও বহাল থাকবে। অর্থাৎ, শান্তি আলোচনা চললেও তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ বজায় রাখছে ওয়াশিংটন।
প্রজেক্ট ফ্রিডম কী?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালীতে বিদেশি জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে। এর ফলে বহু দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ সেখানে আটকা পড়ে। এসব জাহাজকে নিরাপদ করিডোর দিয়ে বের করে আনতে গত সোমবার থেকে মার্কিন সেনাবাহিনী ১৫ হাজার সেনা, শতাদিক যুদ্ধবিমান ও ড্রোন নিয়ে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযান শুরু করেছিল।
ইরানের হুঁশিয়ারি ও কূটনৈতিক তৎপরতা
এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মার্কিন নৌযান পারাপারের প্রচেষ্টাকে ‘ ceasefire লঙ্ঘন’ হিসেবে গণ্য করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে এবং ওয়াশিংটন এখন যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এই শান্তি আলোচনা বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



