অস্ট্রেলিয়ায় কোন বিষয়ে পড়লে চাকরির সুযোগ বেশি

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:৪২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা শেষ করেও অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিজেদের যোগ্যতা ও পড়াশোনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি পাচ্ছেন না। চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা, স্থানীয় কাজের অভিজ্ঞতার অভাব এবং ভিসার মেয়াদ নিয়ে অনিশ্চয়তা তাঁদের কর্মসংস্থানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভিয়েতনামের সংবাদমাধ্যম ভিএনএক্সপ্রেস ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

যোগ্যতার যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না

অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা বিভাগের ২০২৫ সালের গ্র্যাজুয়েট আউটকামস সার্ভে অনুযায়ী, পূর্ণকালীন কর্মরত আন্তর্জাতিক স্নাতকদের মধ্যে ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ মনে করেন, তাঁদের চাকরিতে অর্জিত দক্ষতা বা শিক্ষার পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না। স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের মধ্যে এ হার ৩৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

অর্থাৎ, উচ্চশিক্ষা শেষ করে চাকরি পেলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আন্তর্জাতিক স্নাতক নিজেদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা পুরোপুরি কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছেন না।

আবেদন করেও চাকরি পাননি ফিন্যান্সের স্নাতক

মেলবোর্নের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২৫ সালে ফিন্যান্সে স্নাতক শেষ করেন ২২ বছর বয়সী নি। আর্থিক বিশ্লেষক হিসেবে চাকরি পেতে ডেলয়েট, ইওয়াই, কেপিএমজি ও পিডব্লিউসির মতো প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেন তিনি। প্রায় পাঁচটি সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত কোনো চাকরি পাননি।

তাঁর অভিজ্ঞতা অস্ট্রেলিয়ার চাকরির বাজারে আন্তর্জাতিক স্নাতকদের প্রতিযোগিতা ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের একটি উদাহরণ।

অভিজ্ঞতা ও ভিসা নিয়ে উদ্বেগ

নিয়োগদাতাদের স্থানীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার, অস্ট্রেলিয়ায় কাজের অভিজ্ঞতার অভাব এবং অস্থায়ী ভিসার মেয়াদ নিয়ে অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক স্নাতকদের চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বাধা হয়ে উঠেছে।

কিছু নিয়োগদাতা দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে কর্মী নিয়োগের সময় ভিসাসংক্রান্ত ঝুঁকিও বিবেচনা করেন। ফলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক স্নাতকদের জন্য উপযুক্ত চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এর সঙ্গে শ্রমবাজারের শ্লথ গতিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তবে সব বিষয়ে কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি এক নয়; পড়াশোনার বিষয় অনুযায়ী চাকরির সুযোগে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

যেসব বিষয়ে কর্মসংস্থানের হার বেশি

২০২৫ সালের জরিপে আন্তর্জাতিক স্নাতকদের মধ্যে পূর্ণকালীন কর্মসংস্থানের হার চিকিৎসাবিদ্যায় সবচেয়ে বেশি, ৯৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ফার্মেসিতে এ হার ৮৯ দশমিক ৭ শতাংশ, পুনর্বাসনবিষয়ক শিক্ষায় ৮১ দশমিক ১ শতাংশ এবং ভেটেরিনারি সায়েন্সে ৭৬ দশমিক ৯ শতাংশ।

এসব পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক স্নাতকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বিষয়ভেদে আলাদা। তবে শুধু কর্মসংস্থানের হার দিয়ে কোনো বিষয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পেশার যোগ্যতা, নিবন্ধন ও অন্যান্য শর্তও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আগেভাগে প্রস্তুতির পরামর্শ

ডিকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লি ট্রান নিয়োগদাতাদের অস্থায়ী স্নাতক ভিসা ও এর শর্ত সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কার্যকর কর্মজীবনবিষয়ক সহায়তা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের এ ধরনের পরামর্শের আলোকে পড়াশোনার সময় থেকেই কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা অর্জন, পেশাগত যোগাযোগ তৈরি এবং চাকরির বাজারের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সূত্র: প্রথম আলো