ববি উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা: সোমবার থেকে ক্যাম্পাস ‘শাটডাউন’
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৬:৩২ অপরাহ্ণ, মে ১০, ২০২৬
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে সোমবার (১১ মে) থেকে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের ডাক দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। শিক্ষক সমাজের ব্যানারে আজ রবিবার বিকেলে এই কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। এর ফলে আবারও অনিশ্চয়তায় পড়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন।
সংকট ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
মূলত শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত দাবিকে কেন্দ্র করে গত ২০ এপ্রিল থেকে উত্তপ্ত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। টানা ১০ দিনের আন্দোলনের পর গত ৩০ এপ্রিল বিভাগীয় কমিশনারের মধ্যস্থতায় এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সংকট সমাধানের সমঝোতা হওয়ায় ক্লাস-পরীক্ষা শুরুর আশা জেগেছিল। তবে শিক্ষকদের অভিযোগ, সমঝোতা বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে প্রশাসন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।
উপাচার্যের বিরুদ্ধে ‘একক সিদ্ধান্তে’র অভিযোগ
শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপাচার্য সমঝোতা লঙ্ঘন করে একক সিদ্ধান্তে প্রশাসন পরিচালনা করছেন। গত ৮ মে রাতে নোটিশ দিয়ে পরদিন (৯ মে) জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়। শিক্ষকদের অভিযোগ:
-
সিন্ডিকেট সভায় অধিকাংশ সদস্যের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে।
-
সংকট নিরসনের পরিবর্তে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলা হয়েছে।
-
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও নীতিমালার অবমাননা করা হয়েছে।
শিক্ষক সভার কঠোর সিদ্ধান্তসমূহ
রবিবার আয়োজিত শিক্ষকদের এক সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়:
-
উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা: ১১ মে থেকে উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
-
পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন: ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ।
-
গণপদত্যাগ: প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের নিজ নিজ পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত।
“আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু প্রশাসনের একঘেয়েমি আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিয়েছে। স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ না ফেরা পর্যন্ত এই শাটডাউন চলবে।”
— শিক্ষক নেতৃবৃন্দ
শিক্ষার্থীদের উৎকণ্ঠা ও সেশনজটের আশঙ্কা
বারবার আন্দোলন আর শাটডাউনের ঘোষণায় চরম হতাশায় পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অনেক বিভাগেই পরীক্ষা স্থগিত হয়ে আছে। নতুন করে শাটডাউন শুরু হলে সেশনজট দীর্ঘ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।



