জলসীমানায় ইরানের ‘ডলফিন’ আতঙ্ক: হরমুজে অত্যাধুনিক সাবমেরিন মোতায়েন

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৬:৫৩ অপরাহ্ণ, মে ১০, ২০২৬

পারস্য উপসাগরে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে এবং সম্ভাব্য শত্রু মোকাবিলায় নতুন রণকৌশল হাতে নিয়েছে ইরান। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হালকা সাবমেরিন মোতায়েন করেছে দেশটির নৌবাহিনী। ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) এই শক্তিশালী ডুবোজাহাজগুলোকে ‘পারস্য উপসাগরের ডলফিন’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

‘পারস্য উপসাগরের ডলফিন’ ও রণসক্ষমতা

আইআরজিসি ঘনিষ্ঠ তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যমান হুমকি ও অপারেশনাল চাহিদা মেটাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি জানিয়েছেন:

  • অদৃশ্য অবস্থান: এই সাবমেরিনগুলো সমুদ্রের তলদেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে পারে।

  • সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদ: পানির নিচ থেকেই শত্রু জাহাজ শনাক্ত এবং নিখুঁতভাবে ধ্বংস করার সক্ষমতা রয়েছে এদের।

  • প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী: সম্প্রতি ‘ডেনা ডেস্ট্রয়ার’ জাহাজের শহীদদের স্মরণে এক বিশেষ অভিযানে সাবমেরিনগুলো পানির উপরে উঠে এসে নিজেদের সক্ষমতার জানান দেয়।

সংঘাত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলা মার্কিন-ইসরায়েলি ও ইরান সংঘাতের ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে সরকারি তথ্যে। ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে:

নিহতের বিবরণ সংখ্যা
মোট প্রাণহানি ৩,৩৮০ জন
পুরুষ নিহত ২,৮৭৫ জন
নারী নিহত ৪৯৬ জন
নিহত চিকিৎসাকর্মী ২৬ জন

“আমাদের সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এসব হালকা সাবমেরিন অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করবে। বর্তমানে আমরা এর সংখ্যা আরও বাড়িয়েছি।”

— শাহরাম ইরানি, কমান্ডার, ইরান নৌবাহিনী

পটভূমি ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। বিশেষ করে মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন মিসাইল হামলায় ১৬৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যু পরিস্থিতিকে ‘যুদ্ধাপরাধের’ পর্যায়ে নিয়ে যায়। এরপর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির চেষ্টা এবং ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। ফলশ্রুতিতে ১৩ এপ্রিল হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে ইরান, যা বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।