রামিসা হত্যা: এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ আইনমন্ত্রীর

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:০৩ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) আইন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের এই নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আইন মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা জানান, আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন— এই নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে সরকার সব ধরনের যথাযথ ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। অপরাধী যাতে কোনোভাবেই পার না পায়, তা নিশ্চিত করা হবে।

আদালতে মূল আসামির রোমহর্ষক স্বীকারোক্তি

এদিকে, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি সোহেল রানা (৩৪) গতকাল বুধবার আদালতে হাজির করা হলে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানান, শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর সে তাকে হত্যা করে। পরবর্তীতে অপরাধের আলামত গোপন করা এবং মরদেহটি গুম করার উদ্দেশ্যে সে লাশ খণ্ডবিখণ্ড করার চেষ্টাও করেছিল।

আদালত জবানবন্দি গ্রহণ শেষে সোহেল রানাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

যেভাবে উদ্ধার হয় মরদেহ

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুরের পল্লবী এলাকার একটি বাড়ির তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। তবে ঘটনাস্থল থেকেই পুলিশ তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে পলাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার বিবরণ:

এই নৃশংস ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতেই নিহত শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে শিশুটির বাবা উল্লেখ করেছিলেন, তাঁর মেয়েকে ধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আইনমন্ত্রীর এই কঠোর নির্দেশনার পর দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করা এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।