বেকারত্ব কমাতে ১৪ বছর থেকেই কারিগরি শিক্ষায় জোর ইংল্যান্ডের
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৪৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২৬
মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে ইংল্যান্ড সরকার। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৪ বছর বয়স বা নবম শ্রেণি থেকেই শিক্ষার্থীরা গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানের মতো বাধ্যতামূলক বিষয়ের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), উৎপাদনশিল্প, নির্মাণ, কোডিং, সাইবার নিরাপত্তা এবং অন্যান্য কারিগরি বিষয়ে পড়ার সুযোগ পাবে।
সরকার জানিয়েছে, স্থানীয় শিল্প খাতের চাহিদা বিবেচনায় এসব কোর্স তৈরি করা হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি স্থানীয় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ এবং কর্ম-অভিজ্ঞতা (ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্স) অর্জনের ব্যবস্থাও থাকবে।
সরকার এ উদ্যোগকে শিক্ষাব্যবস্থায় একটি ‘মৌলিক পরিবর্তন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। যদিও এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
টাইমস-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ব্যবহারিক ও কারিগরি দক্ষতার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। ভবিষ্যতের অর্থনীতিতে দক্ষ প্রকৌশলী, ইলেকট্রিশিয়ান, উৎপাদন বিশেষজ্ঞ এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের চাহিদা আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা বাধ্যতামূলক একাডেমিক বিষয়গুলোর পাশাপাশি নিজেদের আগ্রহ অনুযায়ী কারিগরি বিষয়ও বেছে নিতে পারবে। অর্থাৎ, একই সঙ্গে একাডেমিক ও কারিগরি শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের এমন ধারণা দেওয়া হয়েছে যে সফল হতে হলে শুধু একাডেমিক বিষয়েই ভালো করতে হবে। নতুন নীতিতে নির্মাণ, কোডিং, উৎপাদনশিল্প, প্রকৌশল কিংবা ধ্রুপদি শিক্ষাসহ সব ধরনের দক্ষতাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সরকারের দাবি, এই সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য যুক্তরাজ্যে বাড়তে থাকা যুব বেকারত্ব কমানো। চলতি বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে ১০ লাখের বেশি তরুণ বর্তমানে শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণ—কোনোটির সঙ্গেই যুক্ত নন। সরকারের বিশ্বাস, শিল্প খাতের সঙ্গে সমন্বিত কারিগরি শিক্ষা এ পরিস্থিতি উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে ইংল্যান্ডের কয়েকটি অঞ্চলে নতুন শিক্ষাপদ্ধতি চালু করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা তদারকি সংস্থা অফস্টেড বিদ্যালয় মূল্যায়নের সময় কারিগরি শিক্ষার মানও বিবেচনায় নেবে।
তবে এই সংস্কার শুধু ইংল্যান্ডে কার্যকর হবে। কারণ, যুক্তরাজ্যে শিক্ষা বিকেন্দ্রীভূত নীতির আওতায় পরিচালিত হয়। যদিও ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী লুসি পাওয়েল বলেন, নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যা তরুণদের নিজ নিজ এলাকার কর্মসংস্থানের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করবে।
তবে নতুন উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও বাস্তবায়ন, অর্থায়ন এবং বিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা নিয়ে আরও স্পষ্ট পরিকল্পনার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্টরা। বিরোধী দলগুলোরও মত, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে যথেষ্ট নমনীয়তা রাখা প্রয়োজন, যাতে তারা প্রয়োজন অনুযায়ী একাডেমিক ও কারিগরি ধারার মধ্যে পরিবর্তনের সুযোগ পায়।



