ফ্রান্সে বাংলাদেশি নাগরিকদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষার (আশ্রয়) আবেদন আগের বছরের তুলনায় কমেছে। তবে আশ্রয়প্রার্থী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ এখনো উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। দেশটির শরণার্থী ও রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের সুরক্ষাবিষয়ক সংস্থা অফপ্রা (OFPRA)-এর ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৭০টি আবেদন জমা পড়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ হাজারের বেশি কম। এর মধ্যে প্রথমবারের আবেদন ছিল ১ লাখ ১১ হাজার ৩৪৩টি এবং পুনর্বিবেচনার আবেদন ৩৩ হাজার ৭১৩টি। প্রথমবারের আবেদন ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমলেও পুনর্বিবেচনার আবেদন বেড়েছে ৪৩ শতাংশ।
প্রথমবারের আবেদনকারীদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ইউক্রেন। এরপর রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, আফগানিস্তান, গিনি, আইভরি কোস্ট, হাইতি, তুরস্ক ও সুদান।
বাংলাদেশিদের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে অফপ্রার সিদ্ধান্তে ৩৯৩ জন বাংলাদেশি শরণার্থী মর্যাদা বা সহায়ক সুরক্ষা পেয়েছেন। একই সময়ে ৪ হাজার ৯০৭টি আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
অফপ্রা এবং ফ্রান্সের জাতীয় আশ্রয় আদালত (CNDA)-এর সম্মিলিত সিদ্ধান্তে মোট ১ হাজার ৩৩৯ জন বাংলাদেশি আন্তর্জাতিক সুরক্ষার স্বীকৃতি পেয়েছেন। এতে বাংলাদেশিদের সুরক্ষা পাওয়ার হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে অফপ্রা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫০০টির বেশি আবেদন নিষ্পত্তি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ৭৮ হাজার ৭৮৩ জন আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পেয়েছেন। ফ্রান্সে সামগ্রিক সুরক্ষা স্বীকৃতির হার ছিল ৪১ দশমিক ২ শতাংশ।
আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়ানোর ফলে অপেক্ষমাণ মামলার সংখ্যা প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি শরণার্থী ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য ৭৯ হাজারের বেশি জন্মসনদ, বিবাহসনদসহ বিভিন্ন নাগরিক নথি ইস্যু করেছে অফপ্রা।
প্রতিবেদনে গবেষণার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দেশভিত্তিক গবেষণার মধ্যে বাংলাদেশ ছিল দ্বিতীয় সর্বাধিক আলোচিত দেশ। অন্তত পাঁচটি গবেষণা অনুরোধের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা প্রতিবেদনের ৬ শতাংশ বাংলাদেশকে নিয়ে, যা ইউক্রেন ও আফগানিস্তানের সমান।