সব পাইলটের ডোপ টেস্ট করাবে এয়ার ইন্ডিয়া
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৭:৫৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২৬
পাইলটদের বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্ট করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের এয়ার ইন্ডিয়া। আজ বৃহস্পতিবার থেকেই এই পরীক্ষা শুরু হবে। এয়ারলাইন্সটির সব পাইলটকে এ পরীক্ষার আওতায় আনা হবে।
কর্মীদের কাছে পাঠানো এয়ার ইন্ডিয়ার একটি আনুষ্ঠানিক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, প্রচলিত নিয়ন্ত্রক বিধিমালার বাইরে গিয়েও পাইলটদের শরীরে অনুমোদনহীন কোনো পদার্থ বা ওষুধের উপস্থিতি শনাক্ত করতে এই পূর্ণাঙ্গ স্ক্রিনিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ফুকেট থেকে দিল্লিগামী একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশে তীব্র ঝাঁকুনির ঘটনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই ফ্লাইটের প্রধান পাইলট সুদীপ ভাসিস্তার পরপর দুটি ডোপ টেস্টে মাদক গ্রহণের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরীক্ষায় তার শরীরে মারিজুয়ানার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার চিঠিতে বলা হয়, ভারতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সব নিয়ন্ত্রক বিধিমালা এয়ারলাইন্সটি মেনে চলে। ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য প্রধান বিমান চলাচল ব্যবস্থাতেও একই ধরনের নিয়ম রয়েছে। তবে নিরাপত্তা ও পেশাদারির মান আরও উন্নত করতে প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে এই স্ক্রিনিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এয়ারলাইন্সটি জানিয়েছে, গুরুগ্রামের একাডেমিতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ফ্লাইট ব্রিফিং সেন্টার ও বিভিন্ন অফিসে ফ্লাইট-পরবর্তী সময়ে ডোপ টেস্ট করা হবে।
এয়ার ইন্ডিয়ার ভাষ্য, আইনগত বা প্রাতিষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতার বাইরে গিয়েও নিরাপত্তা ও পেশাদারির সর্বোচ্চ মান বজায় রাখাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে যাত্রী, অংশীজন ও সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।
গত ৪ আগস্ট ১৩৭ জন যাত্রী ও আটজন ক্রু নিয়ে ফুকেট থেকে দিল্লি ফিরছিল এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট। ওড়িশার আকাশসীমায় উড্ডয়নের সময় বিমানটি হঠাৎ তীব্র ঝাঁকুনির কবলে পড়ে এবং প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। ওই সময় প্রধান পাইলট তার আসনে ছিলেন না এবং কো-পাইলট দায়িত্বে ছিলেন।
বিমানটি দ্রুত নিচে নেমে যাওয়ার সময় কেবিনে সাময়িকভাবে ‘নেগেটিভ গ্র্যাভিটি’ তৈরি হয়। এতে ককপিটের বিভিন্ন জিনিসপত্র এবং সিটবেল্ট না বাঁধা যাত্রীরা ছিটকে পড়েন। এআই২৩৭৯ ফ্লাইটের ওই ঘটনায় ২০ যাত্রী ও চার ক্রু আহত হন।
দিল্লিতে অবতরণের পর প্রধান পাইলট সুদীপ ভাসিস্তার ডোপ টেস্ট করা হয়। পরপর দুটি পরীক্ষাতেই তিনি ব্যর্থ হন বলে জানা গেছে। তবে তিনি মাদক গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ঘুমের জন্য ওষুধ সেবনের কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
ঘটনার তদন্তে ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো ও ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থা এয়ারবাসের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করছে। তদন্ত চলাকালে প্রধান পাইলট ও কো-পাইলটকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।



