বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, দেখা যাবে যেসব দেশ থেকে
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৭:১১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০২৬
বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্বের কয়েকটি অঞ্চল। তবে পৃথিবীর সব স্থান থেকে এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা যাবে না। বুধবার (১২ আগস্ট) স্পেনের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা, পর্তুগালের একটি অংশ, গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ড থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।
এ ছাড়া পশ্চিম ইউরোপের যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড ও উত্তর ইতালির বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে দেখা যাবে আংশিক সূর্যগ্রহণ।
চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে সরাসরি অবস্থান করে এবং সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে বাধা দেয়, তখন সূর্যগ্রহণ ঘটে। চাঁদের ছায়ার সবচেয়ে অন্ধকার অংশ বা উম্ব্রার মধ্যে থাকা অঞ্চল থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। আর ছায়ার বাইরের অপেক্ষাকৃত হালকা অংশ বা পেনামব্রায় থাকা অঞ্চল থেকে দেখা যায় আংশিক সূর্যগ্রহণ।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ খুব সীমিত। কারণ চাঁদের ছায়া পৃথিবীর ওপর তুলনামূলকভাবে সরু একটি পথ তৈরি করে। ফলে ওই নির্দিষ্ট পথের মধ্যে থাকা অঞ্চল থেকেই পূর্ণগ্রাস দেখা সম্ভব।
দুই দশক পর ইউরোপে পূর্ণগ্রাস
এটি মূল ভূখণ্ড ইউরোপে প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। যুক্তরাজ্যে সর্বশেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল ১৯৯৯ সালে। তখন ডেভন ও কর্নওয়ালের কিছু এলাকা পূর্ণগ্রাসের পথে ছিল। দেশটিতে পরবর্তী পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ২০৯০ সালের আগে দেখা যাবে না।
তবে বুধবার যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। লন্ডনে স্থানীয় সময় বিকেল ৬টা ১৭ মিনিটে গ্রহণ শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে এবং রাত ৮টা ৬ মিনিটে শেষ হবে।
কর্নওয়ালে সূর্যের প্রায় ৯৬ শতাংশ, পশ্চিম স্কটল্যান্ডে প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং লন্ডনে প্রায় ৯২ শতাংশ সূর্য চাঁদের আড়ালে থাকবে। অন্যদিকে স্পেনের পূর্ণগ্রাস অঞ্চলে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৬ মিনিট থেকে ৮টা ৩৩ মিনিটের মধ্যে গ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে।
খালি চোখে দেখা বিপজ্জনক
সূর্যগ্রহণ খালি চোখে দেখা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। সাধারণ সানগ্লাস ব্যবহার করেও সূর্যের দিকে তাকানো নিরাপদ নয়।
বিশেষ সূর্যগ্রহণের চশমা ব্যবহার করে গ্রহণ দেখা নিরাপদ পদ্ধতিগুলোর একটি। এমন চশমা না থাকলে পিনহোল প্রজেক্টর ব্যবহার করে পরোক্ষভাবে গ্রহণ দেখা যায়। একটি কাগজ বা কার্ডে ছোট ছিদ্র করে তার মাধ্যমে সূর্যের আলো অন্য একটি কাগজের ওপর ফেললে সেখানে সূর্যের পরিবর্তিত আকৃতি দেখা যায়। তবে কোনো অবস্থাতেই ছিদ্র দিয়ে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো উচিত নয়।
গ্রহণের সময় সূর্য দিগন্তের কাছাকাছি থাকবে। তাই যারা এই দৃশ্য দেখতে চান, তাদের পশ্চিম দিগন্তে গাছপালা, ভবন বা অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই—এমন স্থান বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
গবেষণার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ
সূর্যগ্রহণ শুধু দর্শনীয় মহাজাগতিক ঘটনা নয়, বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। পূর্ণগ্রাসের সময় সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা তুলনামূলকভাবে স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়। এর মাধ্যমে সূর্যের বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য এবং প্রায় ১১ বছরের সৌরচক্রের সঙ্গে এর পরিবর্তনের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করা সম্ভব।
১৯১৯ সালের সূর্যগ্রহণও বিজ্ঞানের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে। ওই সময় সূর্যের কাছাকাছি থাকা নক্ষত্রগুলোর অবস্থান পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আলবার্ট আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া যায়।
এদিকে ১২ থেকে ১৩ আগস্ট রাতে পারসেইড উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ পর্যায়ও প্রত্যাশিত। ফলে আকাশ পরিষ্কার থাকলে সূর্যগ্রহণের পর রাতের আকাশেও আরেকটি মনোমুগ্ধকর মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করা যেতে পারে।



