ডিজিটাল প্রতারণার ১০ কোটি রুপি ৫৪৩৬ অ্যাকাউন্টে, গ্রেপ্তার ইনফ্লুয়েন্সার

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৭:৫৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২৬

ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনে থেকে ডিজিটাল প্রতারণার অভিযোগে রোহান যাদব নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পরিচয় দেওয়া যাদবের বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া ১০ কোটি ৭৪ লাখ রুপি ৫ হাজার ৪৩৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেছিলেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে রোহান যাদবের নেতৃত্বে একদল প্রতারক নিজেদের সিবিআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক বৃদ্ধের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা ওই বৃদ্ধকে একটি মামলায় অভিযুক্ত বলে জানায় এবং ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর হুমকি দেয়। আইনি ব্যবস্থা এড়ানোর কথা বলে প্রতারকরা তাকে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি ৭৪ লাখ রুপি স্থানান্তর করতে বাধ্য করে।

পরে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বুঝতে পেরে ওই ব্যক্তি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। এরপর অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান শুরু করে পুনে পুলিশ।

তদন্তের একপর্যায়ে একটি এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার সময় এক অভিযুক্তকে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে হর্ষদ সুভাষ ধানতোলে, সমর্থ সুরেশ দেশমুখ ও অমর শিবাজি আত্তারগি নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ধানতোলে জানায়, এটিএম থেকে তুলে নেওয়া টাকা সে রোহান যাদবকে দিয়েছিল। ওই সময় যাদব পলাতক ছিলেন।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের বাসিন্দা যাদব প্রতারণার অর্থ ৫ হাজার ৪৩৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেছিলেন। টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে তিনি হংকংয়ের কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং তাদের সঙ্গে ভিডিও কলেও কথা বলতেন।

পুলিশের দাবি, যাদব ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে হংকংয়ে থাকা তার ‘হ্যান্ডলারদের’ সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করতেন। ভারত থেকে বিদেশি মুদ্রায় অর্থ পাঠানোর বিনিময়ে তিনি মোটা অঙ্কের কমিশনও পেতেন।

তদন্তে আরও জানা গেছে, রোহান যাদব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি সেলিব্রেটি ম্যানেজমেন্টের কাজও করতেন।

যাদবের বিরুদ্ধে পুনে ও পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ে দুটি মামলা হয়েছে। পুলিশ তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক লেনদেনের বিভিন্ন উৎস অবরুদ্ধ করার পর পালিয়ে থাকার পথ সংকুচিত হয়ে আসে। পরে গত সোমবার পুনের একটি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। এরপর পুনে সাইবার পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে গ্রেপ্তার দেখায়।