দিল্লির হুমায়ুনপুর কেন বিশ্বের ‘কুলেস্ট’ এলাকার তালিকায়

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:১৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২৬

সরু রাস্তা, যানবাহনের ভিড়, ধুলাবালি আর রাস্তার পাশে ময়লার স্তূপ—প্রথম দেখায় দিল্লির হুমায়ুনপুরকে খুব একটা আকর্ষণীয় মনে নাও হতে পারে। তবে খাবার, ফ্যাশন ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির কারণে ভারতের রাজধানীর এই এলাকাই জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পাড়াগুলোর তালিকায়।

ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাইম আউটের ২০২৬ সালের বিশ্বের ‘কুলেস্ট’ এলাকার তালিকায় ১৬তম স্থানে রয়েছে হুমায়ুনপুর। তালিকায় টোকিওর কোয়েঞ্জি, রোমের এসকুইলিনো ও সিউলের জংনো ৩-গার মতো এলাকাও রয়েছে। ভারতের মুম্বাইয়ের বান্দ্রা ওয়েস্ট রয়েছে ২৩তম স্থানে।

খাবারেই আলাদা পরিচয়

দিল্লির তরুণদের কাছে হুমায়ুনপুরের অন্যতম আকর্ষণ এখানকার খাবার। মোমো, থুকপা, নাগা থালি ও সি-ফুডের পাশাপাশি পাওয়া যায় অসমিয়া ও মণিপুরি খাবারসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের নানা স্বাদ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলাকায় ৫০টির বেশি রেস্তোরাঁ রয়েছে। এসব রেস্তোরাঁয় অসম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম ও সিকিমের খাবারের পাশাপাশি ভিয়েতনামি, কোরিয়ান ও থাই খাবারও পাওয়া যায়।

একসময় মূলত উত্তর-পূর্ব ভারতের বাসিন্দাদের খাবারের জায়গা হিসেবে পরিচিত ছিল হুমায়ুনপুর। এখন দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তের মানুষও এসব খাবারের স্বাদ নিতে সেখানে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেস্তোরাঁগুলোর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এলাকাটির জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে।

ফ্যাশন ও সৌন্দর্যচর্চারও ঠিকানা

খাবারের পাশাপাশি হুমায়ুনপুর ধীরে ধীরে ফ্যাশন ও সৌন্দর্যচর্চার কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত হয়েছে। কোরিয়ান ধাঁচের পোশাক, স্ট্রিটওয়্যার, পার্টিওয়্যার ও থ্রিফট শপের পাশাপাশি রয়েছে নানা ধরনের জুতার দোকান।

এলাকাটিতে কোরিয়ান ও জাপানি প্রসাধনী, ট্যাটু পার্লার, কারাওকে ও ফটো বুথও রয়েছে। এ ছাড়া এশীয় বিভিন্ন খাবারের উপকরণ বিক্রি করা দোকান দেখা যায়।

বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত হুমায়ুনপুরের সরু গলিতে নানা বয়সী তরুণ-তরুণীর আনাগোনা থাকে। আধুনিক পোশাক ও নতুন ধারার ফ্যাশনের সঙ্গে স্থানীয় জীবনের পুরোনো চিত্রও এখানে পাশাপাশি চোখে পড়ে।

পুরোনো-নতুনের মিশেলে আলাদা

হুমায়ুনপুরের বৈশিষ্ট্য শুধু খাবার বা ফ্যাশনে সীমাবদ্ধ নয়, এর মানুষের বৈচিত্র্যেও রয়েছে আলাদা পরিচয়। এলাকার অনেক বাড়ির মালিক জাট পরিবার, যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেখানে বসবাস করছেন। তাঁদের ঐতিহ্যবাহী জীবনযাপনের পাশেই গড়ে উঠেছে তরুণদের আধুনিক সংস্কৃতির জগৎ।

একদিকে আধুনিক ফ্যাশনে সজ্জিত তরুণদের ভিড়, অন্যদিকে স্থানীয় পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাপন—এই বৈপরীত্যই এলাকাটিকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।

জনপ্রিয়তার পাশাপাশি উদ্বেগও

তবে হুমায়ুনপুরের গল্প পুরোপুরি ইতিবাচক নয়। চলতি বছরের শুরুতে দিল্লির মালভিয়া নগরে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডের পর আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। সরু রাস্তা ও অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে হুমায়ুনপুরের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল।

প্রতিবেদনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ ও লাইসেন্সসংক্রান্ত কিছু সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যেও।

তারপরও খাবার, ফ্যাশন, সংস্কৃতি এবং পুরোনো-নতুন জীবনযাপনের অনন্য মিশেলে হুমায়ুনপুর দিল্লির এমন একটি পাড়া হয়ে উঠেছে, যার পরিচিতি এখন স্থানীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।