বিদেশে পড়াশোনার জন্য স্কলারশিপ পাবেন যেভাবে

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:১১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২৬

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন অনেক শিক্ষার্থী। তবে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য খরচের কারণে অনেকের পক্ষেই বিদেশে পড়তে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে স্কলারশিপ বা বৃত্তি হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও দাতা সংস্থা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নানা ধরনের বৃত্তি দিয়ে থাকে।

এসব বৃত্তির মাধ্যমে কোনো কোনো ক্ষেত্রে শুধু টিউশন ফি, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে টিউশন ফি, জীবনযাত্রার খরচ, স্বাস্থ্যবিমা ও যাতায়াতের ব্যয়ও বহন করা হয়। তবে সুযোগ ও আর্থিক সহায়তার পরিমাণ নির্ভর করে নির্দিষ্ট কর্মসূচি, শিক্ষার স্তর এবং আবেদনকারীর যোগ্যতার ওপর।

কী ধরনের স্কলারশিপ পাওয়া যায়?

বিদেশে পড়াশোনার জন্য সাধারণত কয়েক ধরনের বৃত্তির সুযোগ রয়েছে। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, আর্থিক অবস্থা, পছন্দের বিষয় ও গন্তব্য দেশের ভিত্তিতে উপযুক্ত বৃত্তি খুঁজে নিতে পারেন শিক্ষার্থীরা।

১. মেধাভিত্তিক বৃত্তি

ভালো একাডেমিক ফলাফল, গবেষণার দক্ষতা, বিশেষ প্রতিভা বা অন্যান্য অর্জনের ভিত্তিতে এ ধরনের বৃত্তি দেওয়া হয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে মেধাভিত্তিক বৃত্তি দিয়ে থাকে।

২. বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি

অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নিজস্ব অর্থায়নে বৃত্তি দেয়। কিছু বৃত্তির জন্য ভর্তির আবেদন করলেই বিবেচিত হওয়া যায়, আবার কিছু ক্ষেত্রে আলাদা আবেদন করতে হয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বৃত্তির শর্ত ও আবেদনপদ্ধতি দেখে নেওয়া জরুরি।

৩. সরকারিভাবে অর্থায়িত বৃত্তি

বিভিন্ন দেশের সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি দিয়ে থাকে। উদাহরণ হিসেবে আমেরিকার ফুলব্রাইট ফরেন স্টুডেন্ট প্রোগ্রাম, যুক্তরাজ্যের শেভেনিং স্কলারশিপ এবং কমনওয়েলথ স্কলারশিপের কথা বলা যায়। এসব কর্মসূচির যোগ্যতা, অর্থায়ন ও আবেদনের সময়সীমা একেক রকম।

৪. বেসরকারি সংস্থার বৃত্তি

বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, দাতব্য সংস্থা ও ফাউন্ডেশন নির্দিষ্ট বিষয়, গবেষণা বা শিক্ষার্থীদের কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে সহায়তা করতে বৃত্তি দিয়ে থাকে। এসব বৃত্তির ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করতে হয়।

৫. আর্থিক প্রয়োজনভিত্তিক বৃত্তি

শিক্ষার্থীর বা পরিবারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে কিছু বৃত্তি দেওয়া হয়। এসব বৃত্তির ক্ষেত্রে আয়সংক্রান্ত নথি ও আর্থিক প্রয়োজনের প্রমাণ চাওয়া হতে পারে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে মেধাভিত্তিক ও আর্থিক প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা একসাথেও পাওয়া যায়।

বিষয় ও দেশ অনুযায়ী বৃত্তি খুঁজুন

সব বৃত্তি সবার জন্য নয়। কিছু বৃত্তি নির্দিষ্ট দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য, কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনার জন্য এবং কিছু স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি পর্যায়ের জন্য নির্ধারিত থাকে।

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, চিকিৎসা, ব্যবসা, সামাজিক বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে বৃত্তির সুযোগ রয়েছে। আবার কিছু কর্মসূচিতে নারী, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী বা নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ রাখা হয়।

তাই প্রথমেই নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পছন্দের বিষয়, সম্ভাব্য গন্তব্য দেশ এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ধরন নির্ধারণ করা উচিত।

কীভাবে স্কলারশিপের জন্য আবেদন করবেন?

বিদেশে বৃত্তি পাওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে এগোনো জরুরি। কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে পারেন—

প্রথম ধাপ: উপযুক্ত বৃত্তি খুঁজে বের করুন। বিশ্ববিদ্যালয়, সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি ওয়েবসাইট এবং স্বীকৃত বৃত্তির তথ্যভান্ডার থেকে সুযোগ খুঁজুন।

দ্বিতীয় ধাপ: যোগ্যতা যাচাই করুন। শিক্ষাগত ফলাফল, ভাষাদক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা, গবেষণার প্রস্তাব ও অন্যান্য শর্ত মিলিয়ে দেখুন।

তৃতীয় ধাপ: প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করুন। সাধারণত একাডেমিক সনদ ও নম্বরপত্র, জীবনবৃত্তান্ত, উদ্দেশ্যপত্র, সুপারিশপত্র এবং ভাষাদক্ষতার প্রমাণ লাগতে পারে। গবেষণাভিত্তিক কর্মসূচিতে গবেষণা প্রস্তাবও প্রয়োজন হতে পারে।

চতুর্থ ধাপ: সময়সীমার মধ্যে আবেদন করুন। প্রতিটি বৃত্তির আবেদন শুরুর ও শেষের তারিখ আলাদা হতে পারে। তাই আগে থেকেই সময়সূচি তৈরি করে আবেদন সম্পন্ন করুন।

পঞ্চম ধাপ: একাধিক উপযুক্ত বৃত্তিতে আবেদন করুন। যোগ্যতা ও শর্তের সাথে মিল থাকলে একাধিক কর্মসূচিতে আবেদন করা যেতে পারে। তবে প্রতিটি বৃত্তির নিয়ম আলাদাভাবে অনুসরণ করতে হবে।

ফুল ফান্ডিং নাকি আংশিক বৃত্তি?

ফুল ফান্ডিং বা পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তিতে সাধারণত টিউশন ফিসহ একাধিক ব্যয় বহন করা হয়। তবে সব কর্মসূচিতে থাকা-খাওয়া, বিমানভাড়া, স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে না। অন্যদিকে আংশিক বৃত্তিতে টিউশন ফির একটি অংশ বা নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দেওয়া হতে পারে।

বৃত্তি পাওয়ার আগে কোন কোন খরচ বহন করা হবে, কত দিন অর্থায়ন চলবে এবং শিক্ষার্থীকে নিজে কত টাকা দিতে হবে—এসব বিষয় ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।

প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকুন

স্কলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে অর্থ দাবি করা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সতর্ক থাকুন। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা বৃত্তি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে তথ্য যাচাই করুন। আবেদন ফি থাকলে তা অনুমোদিত পদ্ধতিতে পরিশোধ করুন এবং ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে ওয়েবসাইটের সত্যতা নিশ্চিত করুন।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য বৃত্তি পাওয়া প্রতিযোগিতামূলক হলেও সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং সময়মতো আবেদন করলে সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই নিজের যোগ্যতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বৃত্তি খুঁজে পরিকল্পিতভাবে আবেদন করাই গুরুত্বপূর্ণ।