৩ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট, থাকছে ১০০ প্রদর্শক

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:৫২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬

দেশি-বিদেশি ট্যুর অপারেটর, এয়ারলাইন, ট্রাভেল এজেন্সি ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় শুরু হচ্ছে তিন দিনের আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ট্রেড প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট (BTM) ২০২৬’। আয়োজনে প্রায় ১০০ প্রদর্শক, ৬০ ট্রেড বায়ার ও ১৫ হাজার দর্শনার্থী অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর শুরু হবে বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট (BTM) ২০২৬। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মানের এই ট্রাভেল ট্রেড প্ল্যাটফর্মের আয়োজন করছে বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (BOTOA)। তিন দিনের এই আয়োজন চলবে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রায় ১০০ প্রদর্শক, ৬০ ট্রেড বায়ার এবং ১৫ হাজার দর্শনার্থী এবারের আয়োজনে অংশ নেবেন। দেশি-বিদেশি ট্যুর অপারেটর, ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, এয়ারলাইন, ট্রাভেল এজেন্সি, পর্যটন সংস্থা এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্টের উদ্বোধন করবেন।

BOTOA সভাপতি সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ বলেন, এটি শুধু একটি প্রদর্শনী নয়, বরং ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম। দেশীয় পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে যুক্ত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যটন ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ততা বাড়লে নতুন বাজার তৈরি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং পর্যটন, হসপিটালিটি ও এভিয়েশন খাতে সহযোগিতা বাড়বে।

থাকছে সরাসরি ব্যবসায়িক বৈঠকের সুযোগ

BTM ২০২৬-এর অন্যতম আকর্ষণ হবে পূর্বনির্ধারিত B2B Buyer-Seller Meetings। অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্রেতা ও বিক্রেতারা আগেই সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদার নির্বাচন করে বৈঠকের সময় নির্ধারণ করতে পারবেন।

BTM-এর প্রধান সমন্বয়ক মোহসিন ইকবাল বলেন, অংশগ্রহণকারীরা যেন শুধু যোগাযোগ তৈরি করে ফিরে না যান, বরং বাস্তব ব্যবসায়িক সম্ভাবনা ও নতুন অংশীদার নিয়ে ফিরতে পারেন—সেই লক্ষ্যেই আয়োজন সাজানো হয়েছে।

আয়োজনে আলাদা Business-to-Business (B2B) ও Business-to-Consumer (B2C) অংশ থাকবে। B2B অংশে দেশি-বিদেশি ক্রেতা ও বিক্রেতারা ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব তৈরির সুযোগ পাবেন।

অন্যদিকে B2C অংশে সাধারণ দর্শনার্থীরা সরাসরি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন। এ সময় দেশি-বিদেশি ট্যুর প্যাকেজ, এয়ারলাইন টিকিট, হোটেল ও রিসোর্ট বুকিং, ভিসা সেবা এবং বিভিন্ন বিশেষ অফার সম্পর্কে তথ্য জানার সুযোগ থাকবে।

BOTOA সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন, আন্তর্জাতিক মানের একটি ট্রাভেল ট্রেড প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য। এখানে শুধু প্রদর্শনী নয়, বাস্তব ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্টকে শুধু বার্ষিক প্রদর্শনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ট্রেড প্ল্যাটফর্মে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বৈশ্বিক বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।