মেঘালয় ভ্রমণে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর হতে পারে ভালো সময়

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:০৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০২৬

পাহাড়, ঝরনা, লেক, গুহা ও সবুজ প্রকৃতির কারণে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয় ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয়। বিশেষ করে বর্ষার পর সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে প্রকৃতির সবুজ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ে। তবে এ সময়ও কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে।

রাজ্যের রাজধানী শিলং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। পাহাড়ি আবহাওয়া, পাইনবন ও আশপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্যের কারণে শহরটি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।

শিলংয়ের দর্শনীয় স্থান

শিলংয়ের কাছেই রয়েছে শিলং পিক। এখান থেকে শহর ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকার বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়।

এ ছাড়া সোহপেতবিনেং পিকও দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয়। স্থানীয় খাসি জনগোষ্ঠীর কাছে স্থানটির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব রয়েছে।

শিলং শহরের অন্যতম পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র ওয়ার্ডস লেক। ফুল ও পাইনগাছে ঘেরা এই লেকে নৌকাভ্রমণের সুযোগ রয়েছে।

শহর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে উমিয়াম লেক, যা বড়পানি নামেও পরিচিত। পাহাড়ঘেরা এই জলাধার নৌবিহার ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রমের জন্য জনপ্রিয়।

ঝরনার টানে পর্যটক

মেঘালয়ের অন্যতম বড় আকর্ষণ এর অসংখ্য ঝরনা। এলিফ্যান্ট ফলস, সুইট ফলস, বিশপ ফলস ও বিডেন ফলসসহ বিভিন্ন ঝরনা বর্ষার পর পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

তবে পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টির কারণে রাস্তা পিচ্ছিল বা দুর্গম হয়ে যেতে পারে। তাই ঝরনা ও পাহাড়ি এলাকায় যাওয়ার আগে স্থানীয় আবহাওয়ার পরিস্থিতি জেনে নেওয়া ভালো।

চেরাপুঞ্জির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

মেঘালয় ভ্রমণে চেরাপুঞ্জি অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। পাহাড়, উপত্যকা, ঝরনা ও মেঘে ঢাকা প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য জায়গাটি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।

চেরাপুঞ্জি বিশ্বের অতিবৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলগুলোর একটি। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, চেরাপুঞ্জিতে ১৮৬১ সালের জুলাই মাসে এক মাসে ৯ হাজার ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। একইভাবে ১৮৬০-৬১ সময়ে এক বছরে ২৬ হাজার ৪৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ডও চেরাপুঞ্জির রয়েছে।

তবে গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাতের হিসাবে মেঘালয়ের মাওসিনরাম বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল স্থান হিসেবে পরিচিত। তাই চেরাপুঞ্জিকে সরাসরি ‘বিশ্বের সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল স্থান’ বলা ঠিক নয়।

চেরাপুঞ্জির থাংখারাং পার্ক ও ইকো পার্কও দর্শনার্থীদের কাছে জনপ্রিয়। সময় থাকলে এখানে এক রাত অবস্থান করে আশপাশের পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

গুহা ভ্রমণে রোমাঞ্চ

মেঘালয়ের আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ এর প্রাকৃতিক গুহা। চেরাপুঞ্জির মৌসুমাই গুহা, ক্রেম মৌমলুহসহ বিভিন্ন গুহা পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়।

জৈন্তিয়া পাহাড় ও গারো পাহাড় এলাকাতেও বেশ কিছু গুহা রয়েছে। তবে বর্ষাকালে গুহায় প্রবেশের আগে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি জেনে নেওয়া জরুরি।

পার্ক ও অন্যান্য আকর্ষণ

শিলংয়ের লেডি হায়দারি পার্কেও পর্যটকদের ভিড় থাকে। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ও প্রাণী দেখা যায়।

শিলং গলফ কোর্সও শহরের অন্যতম পরিচিত দর্শনীয় স্থান। পাইনগাছঘেরা এই গলফ মাঠটি ভারতের পুরোনো গলফ কোর্সগুলোর একটি।

কখন যাবেন?

মেঘালয় সারা বছরই পর্যটকদের আকর্ষণ করে। তবে যারা ঝরনা, সবুজ পাহাড় ও বর্ষার পরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে চান, তাদের জন্য সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ভালো সময় হতে পারে।

অন্যদিকে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি পথে চলাচলের ঝুঁকি এড়াতে চাইলে বর্ষাকালের চরম সময় এড়িয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা ভালো।

বাংলাদেশ থেকে মেঘালয় ভ্রমণের ক্ষেত্রে সীমান্ত পারাপার, প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি, যানবাহন ও স্থানীয় প্রবেশ-নিয়ম আগে থেকেই যাচাই করে নেওয়া উচিত।