৯৯ বিচারককে বদলি ও পদায়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:২৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের ৪৪ জেলা জজ, ২৬ অতিরিক্ত জেলা জজ, ২৫ যুগ্ম জেলা জজ, দুই সিনিয়র সিভিল জজ ও দুই সিভিল জজসহ মোট ৯৯ বিচারককে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শক্রমে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে।

বদলি ও পদায়নের মধ্যে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার ১৭ বিচারককে চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া জেলা জজ ও অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদার কয়েকজন বিচারককে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আইনসংক্রান্ত পদে বদলি করা হয়েছে।

চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে পদায়ন করা ১৭ বিচারকের মধ্যে কিশোরগঞ্জে রাহেলা পারভীন, মুন্সীগঞ্জে ফাতেমা তুজ জোহরা মুনা, নরসিংদীতে মো. তারেক আজিজ, জয়পুরহাটে জান্নাতুল রাফিন সুলতানা, কুড়িগ্রামে কনক বড়ুয়া, দিনাজপুরে ফাতিমা খাতুন, মাগুরায় সাবিনা ইয়াসমিন এবং ঝিনাইদহে তারিকুল ইসলাম রয়েছেন।

এছাড়া কুষ্টিয়ায় মো. আরিফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোছা. আসমা মাহমুদ, ঢাকা মহানগরে তানিয়া ইসলাম, ময়মনসিংহে মোছা. নাসিমা খাতুন, কক্সবাজারে মোহাম্মদ দাউদ হাসান, যশোরে মো. হাসিবুল হাসান, রাজবাড়ীতে শারমিন সুলতানা সুমি এবং বান্দরবানে শ্রী জ্ঞান তঞ্চঙ্গ্যাকে চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

জেলা জজ পর্যায়েও কয়েকজন বিচারককে বিভিন্ন পদে বদলি করা হয়েছে। সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টা, ঝিনাইদহের ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মাসুদ আলীকে আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব, পাবনার পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক মো. ফেরদৌস ওয়াহিদকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টা এবং আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত জেলা জজ সোনিয়া আহমেদকে ডেপুটি সলিসিটর করা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা জজ পর্যায়েও একাধিক বিচারককে বিভিন্ন জেলা ও প্রতিষ্ঠানে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন সচিবালয়ের উপপরিচালক মো. হুমায়ুন কবীরকে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, রংপুরের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোছা. মার্জিয়া খাতুনকে নীলফামারীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সত্যব্রত শিকদারকে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ করা হয়েছে।

এ ছাড়া কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সুলতান উদ্দিন প্রধানকে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, নীলফামারীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনামুল হক বাসুনিয়াকে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত জেলা জজ মো. মতিউর রহমানকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ করা হয়েছে।

যুগ্ম জেলা জজ পর্যায়েও কয়েকজন বিচারককে বদলি করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরীকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া আদালতের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, ঢাকার অর্থঋণ আদালতের বিচারক মো. মোশাররফ হোসেনকে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম জেলা জজ ইসরাত জাহানকে হবিগঞ্জের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ করা হয়েছে।

এ ছাড়া যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুল ইসলামকে ঢাকার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, নারায়ণগঞ্জের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের যুগ্ম জেলা জজ মো. মেহেদী হাসানকে সিরাজগঞ্জের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম জেলা জজ হরিদাস কুমারকে সিলেটের জেলা জুডিশিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর করা হয়েছে।

সিনিয়র সিভিল জজ ও সিভিল জজ পর্যায়েও বদলি করা হয়েছে। মেহেরপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদুর রহমানকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের সিনিয়র সিভিল জজ আবদুল্লাহ আল হাসিবকে ঢাকার বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, গাজীপুরের সিভিল জজ মাসুমা রহমানকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আইন কর্মকর্তা এবং নোয়াখালীর সিভিল জজ এস এম শামীম রেজাকে ঝালকাঠির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বদলি হওয়া বিচারকদের আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দায়িত্বভার নির্ধারিত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। প্রশিক্ষণ বা ছুটিতে থাকা বিচারকদের প্রশিক্ষণ বা ছুটি শেষ হওয়ার পর নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।