কানাডা-ইইউ জোট মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার জন্য নয়: কার্নি

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাথে কানাডার সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগ কোনো নতুন ভূ-রাজনৈতিক জোট বা আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বী তৈরি করার লক্ষ্য নয় বলে জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।

বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে ইইউ আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে বুধবার স্ট্রাসবার্গে ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডার লেইন কানাডাকে ইইউর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ করার প্রস্তাব দেন। তবে এই প্রস্তাবকে সন্দেহের চোখে দেখেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, এটি ‘শত্রুতামূলক পদক্ষেপ’ হতে পারে।

ইইউর প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, ‘যদি এটি ভালো উদ্দেশ্যে করা হয়, তবে ঠিক আছে। কিন্তু উদ্দেশ্য যদি খারাপ হয়, তবে আমরা ইউরোপের ওপর খুব ভারী শুল্ক চাপিয়ে দেব, যা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।’

এর পরদিন ইইউ আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে কার্নি বলেন, ‘কোনো পরাশক্তির প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠার জন্য আমি তৃতীয় কোনো ব্লকের প্রস্তাব করছি না, যার আচরণ কেবল একটু ভালো বা ভদ্র হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অন্যদের ওপর আধিপত্য বিস্তারের জন্য ক্ষমতা খুঁজছি না। এর বিপরীতে, আমরা এমন এক স্থিতিস্থাপকতা অর্জন করতে চাই যাতে কেউ আমাদের উন্মুক্ত বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, আমাদের সার্বভৌমত্ব নষ্ট করতে না পারে, আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে হুমকির মুখে ফেলতে না পারে কিংবা আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের গণতন্ত্র ও আইনের শাসনকে ক্ষুণ্ন করতে না পারে।’

বক্তৃতার সময় কার্নি মাঝে মাঝে ফরাসি ভাষায় কথা বলেন এবং কানাডা ও ইইউর মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দেন। জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতির ক্ষয়কে ‘নতুন ঝড়’ হিসেবে উল্লেখ করে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পক্ষে যুক্তি দেন তিনি।

কার্নি বলেন, ‘ইউরোপ এবং কানাডা একসাথে থাকলে আরও শক্তিশালী হবে। একটি কানাডা-ইইউ জোট অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশগুলোর জন্য একটি আলোকবর্তিকা তৈরি করবে।’

কানাডাকে ইইউর ‘সহযোগী সদস্য’ করার ভন ডার লেইনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান কার্নি। জরিপ অনুযায়ী, কানাডীয়দের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশও এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে সমর্থন করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কার্নি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কানাডা ও ইউরোপের সহযোগিতা করা উচিত। পাশাপাশি ইউরোপকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও হাইড্রোজেন সরবরাহের ক্ষেত্রে কানাডার সক্ষমতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রতিরক্ষা উৎপাদন, অর্থ লেনদেন ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, ইউরোপ ও কানাডা যৌথভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নীতিমালা তৈরি করতে পারে।

এ ছাড়া দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান জানিয়ে কার্নি বলেন, তরুণদের যেন আটলান্টিকের উভয় পাড়ে নিজেদের ইচ্ছামতো বসবাস, কাজ ও পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হয়।

আমেরিকার সাথে কানাডার চলমান বাণিজ্য বিরোধের মধ্যেই ইইউর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছেন কার্নি। কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন—উভয়ই ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রভাবের মুখে রয়েছে। এর ফলে নিজেদের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে নতুন সহযোগিতার পথ খুঁজছে দুই পক্ষ।