গণতন্ত্রকে রক্ষা করাটাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ : রাষ্ট্রপতি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৯:১১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
গণতন্ত্রকে রক্ষা করাটাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ ও দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশন প্রাঙ্গণে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা, রক্তপাত ও সন্তানদের প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়ে দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এখন গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সুযোগ এসেছে। সম্প্রতি একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়েছে। ভগ্নস্তূপ থেকে দেশকে দ্রুত পুনর্গঠন করে আবার জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করছে সরকার।
গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে যারা গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করেন, তারা অনেকটা ফিনিক্স পাখির মতো। ধ্বংস হয়ে গেলেও ধ্বংসস্তূপ থেকে আবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র আমরা পেয়েছি, এখন সেটিকে রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় কাজ ও দায়িত্ব। সরকারি দল ও বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব হবে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা। একই সঙ্গে সংসদকে কার্যকর করে যথাযথভাবে পরিচালনা করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে দ্বিমতগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।
আগামী দিনের করণীয় তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে হয়েছে, আর এখন দেশের পুনর্গঠন ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার লড়াই করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য দেশ গড়ে তোলার দায়িত্বও রয়েছে।
তিনি বলেন, এই দেশের মানুষ বারবার গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে এবং বারবার বাধার মুখে পড়েছে। আজ যে সুযোগ এসেছে, তা কোনোভাবেই অবহেলায় হারানো যাবে না। এ বিষয়টি সবাইকে সবসময় মনে রাখতে হবে।
সিলেটের বিভিন্ন সমস্যার প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, স্থানীয়দের পক্ষ থেকে যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো নিয়ে মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা কাজ করছেন। ইতোমধ্যে অনেক বড় কাজ সামনে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ এগিয়ে গেলে সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে।



