টাটা সন্সের চেয়ারম্যানের মেয়াদ বাড়ল ৫ বছর, বিপক্ষে একমাত্র নোয়েল
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৪০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) সিদ্ধান্তের পর টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরনের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদ। তবে পুনর্নিয়োগের প্রস্তাবের বিপক্ষে একমাত্র ভোট দিয়েছেন টাটা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও টাটা সন্সের বোর্ড সদস্য নোয়েল টাটা।
ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
৬৩ বছর বয়সী চন্দ্রশেখরনের বর্তমান মেয়াদ ২০২৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা ছিল।
এর আগে গত ১২ আগস্ট চন্দ্রশেখরন নিজেই জানিয়েছিলেন, বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তৃতীয় মেয়াদে আর দায়িত্ব পালন করবেন না এবং পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন। তবে আরবিআইয়ের সাম্প্রতিক একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পর পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে।
এরপর ‘মনোনয়ন ও পারিশ্রমিক কমিটি’ চন্দ্রশেখরনকে তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানাবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগের প্রস্তাবের বিপক্ষে একমাত্র পরিচালক হিসেবে ভোট দেন নোয়েল টাটা।
নোয়েল টাটা শুরু থেকেই টাটা সন্সকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার বিরোধিতা করে আসছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে চন্দ্রশেখরনের আগের মেয়াদ বাড়ানোর সময়ও তিনি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত না করার শর্ত দিয়েছিলেন।
নোয়েল টাটার শ্বশুরবাড়ির প্রতিষ্ঠান শাপুরজি পালনজি গ্রুপের কাছে টাটা সন্সের প্রায় ১৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি টাটা সন্সকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে।
টাটা সন্সের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে আরবিআইয়ের একটি নির্দেশ। গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নন-ব্যাংকিং ফাইন্যানশিয়াল কোম্পানি বা এনবিএফসি হিসেবে টাটা সন্সের নিবন্ধন প্রত্যাহারের আবেদন খারিজ করে দেয়।
আইন অনুযায়ী, এনবিএফসি হিসেবে নিবন্ধিত থাকলে টাটা সন্সকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা বাধ্যতামূলক।
প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ পরিশোধ করে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি এড়াতে চেয়েছিল টাটা সন্স। কিন্তু আরবিআই আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা আবারও তৈরি হয়েছে।
এর ফলে ‘স্যার দোরাবজি টাটা ট্রাস্ট’-এর উদ্যোগে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের প্রক্রিয়াও আপাতত স্থগিত বা বাতিল হতে পারে। আরবিআইয়ের এই আইনি জটিলতার কারণেই চন্দ্রশেখরনকে দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের ফলাফল বা সিদ্ধান্ত নিয়ে টাটা সন্স কিংবা টাটা ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।



