‘সৈকতে বাচ্চারা খেলছে’, বাবাকে বলা নাহিদের শেষ কথাই এখন স্মৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:১৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২৬

কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে আনন্দে সময় কাটাচ্ছিলেন নাহিদুর রহমান। শুক্রবার রাতে বাবার সাথে ফোনে কথা বলার সময় বলেছিলেন, ‘সি বিচে আছি, বাচ্চারা খেলা করছে।’ সেটিই ছিল বাবার সাথে তাঁর শেষ কথোপকথন। শনিবার সকালে ইনানী সৈকতের একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নাহিদসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

ছেলে, পুত্রবধূ ও দুই নাতনির সন্ধান না পেয়ে ভেঙে পড়েছেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমান। ছেলের সাথে শেষ কথোপকথনের স্মৃতি মনে করে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি।

নিখোঁজ নাহিদুর রহমানের বয়স ৪১ বছর। তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন তানজির বয়স ৩৬ বছর। তাঁদের দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়ার বয়স আট বছর এবং সুনাইনা ইহানার তিন বছর। কক্সবাজারের ইনানী সৈকতের ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ছেলের সাথে শেষ কথোপকথনের স্মৃতিচারণা করে মতিয়ার রহমান বলেন, শুক্রবার রাতেও নাহিদের সাথে তাঁর কথা হয়েছিল। তখন ছেলে জানিয়েছিলেন, তাঁরা সমুদ্রসৈকতে আছেন এবং শিশুরা খেলছে। বুধবার ঢাকায় ফেরার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু শনিবার সকালের অগ্নিকাণ্ড সবকিছু বদলে দিয়েছে।

মতিয়ার রহমান জানান, প্রায় দেড় মাস আগে তিনি গ্রামের বাড়িতে এসেছেন। বুধবার তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। ছোট ছেলে নাহিদের সাথে রাজধানীতেই থাকতেন তিনি। শুক্রবার রাতেও ছেলের সাথে কথা বলার পরদিন থেকেই পরিবারের চার সদস্যের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর ধরে ঢাকায় বসবাস করছিলেন নাহিদ। রাজধানীর শ্যামলীতে ‘গ্র্যান্ড পাওয়ার কোম্পানি’ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে মিরপুর এলাকায় থাকতেন। গত ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত কক্সবাজারের ইনানী সৈকতের ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ থাকার জন্য বুকিং দিয়েছিলেন তাঁরা। রিসোর্টের মেমো থেকেও বুকিংয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

নাহিদের বড় ভাই জাহিদুর রহমান জানান, তাঁর ভাই, ভাবি ও দুই ভাতিজির কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহগুলোর মধ্যে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে তিনি কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

জাহিদুর রহমান বলেন, অগ্নিকাণ্ডে পাওয়া চারটি মরদেহের মধ্যে দুটি শিশুর মরদেহ রয়েছে। তবে সেগুলো তাঁর পরিবারের সদস্যদের কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহগুলোর অবস্থা এমন যে চেহারা দেখে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন। আহতদের মধ্যেও তাঁর ভাই ও ভাবিকে পাওয়া যায়নি। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

প্রতিবেদনটিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি চারজনের মরদেহ মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।