বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ভাষা, সংস্কৃতি ও একাকিত্বের চ্যালেঞ্জ সামলাবেন যেভাবে

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০২৬

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গেলে নতুন দেশ, ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনযাপনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অনেক শিক্ষার্থীর জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে নতুন দেশে গিয়ে ক্লাসে মতামত তুলে ধরা, নতুন বন্ধু তৈরি করা, নিজের খাবার নিজে রান্না করা কিংবা পরিবার থেকে দূরে থাকার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। তবে আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া, ধৈর্য রাখা এবং প্রয়োজনে সহায়তা চাওয়ার মাধ্যমে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া সহজ হতে পারে।

ভাষাগত বাধা কাটিয়ে উঠুন

বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে ভাষাদক্ষতা শুধু ক্লাসের বিষয় বুঝতেই নয়, অন্যদের সাথে যোগাযোগের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করলেও গন্তব্য দেশের স্থানীয় ভাষার কিছু শব্দ ও বাক্য জানা দৈনন্দিন কাজে সহায়ক হতে পারে।

তাই বিদেশে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেওয়া ভালো। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শেখার কোর্স, লেখার সহায়তাকেন্দ্র ও শিক্ষার্থীদের জন্য থাকা অন্যান্য সুবিধা কাজে লাগানো যেতে পারে।

নতুন সংস্কৃতি ও খাবারের সঙ্গে পরিচিত হন

দেশভেদে মানুষের আচরণ, সামাজিক নিয়ম, সময়ের ব্যবহার, ব্যক্তিগত পরিসর ও যোগাযোগের ধরনে পার্থক্য থাকতে পারে। এসব পার্থক্যকে অস্বাভাবিক মনে না করে বোঝার চেষ্টা করা জরুরি। স্থানীয় মানুষের সাথে কথা বলা, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা এবং স্থানীয় নিয়মকানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

খাবারের ক্ষেত্রেও শুরুতে সমস্যা হতে পারে। পরিচিত খাবার না পাওয়া, রান্নার অভ্যাস না থাকা কিংবা খাবারের দাম বেশি মনে হওয়া—এসব চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত থাকা দরকার। যাওয়ার আগে স্থানীয় বাজার ও খাবারের দাম সম্পর্কে জেনে নিন। সম্ভব হলে কয়েকটি সহজ খাবার রান্না করা শিখে যান। নিজের পছন্দ ও খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখার পাশাপাশি নতুন খাবার চেখে দেখার মানসিকতাও রাখুন।

একাকিত্ব সামলান, গড়ে তুলুন নতুন বন্ধুত্ব

পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে দূরে থাকার কারণে মন খারাপ হতে পারে। বিশেষ করে নতুন দেশে প্রথম কয়েক সপ্তাহ বা মাসে পরিচিত পরিবেশের অভাব বেশি অনুভূত হতে পারে। এ সময় পরিবার ও বন্ধুদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। পাশাপাশি শুধু বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সাথেও বন্ধুত্ব গড়ে তোলার চেষ্টা করুন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব, সাংস্কৃতিক আয়োজন, খেলাধুলা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে অংশ নিলে নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। নিজের আগ্রহের কাজ চালিয়ে যাওয়াও মানসিকভাবে ভালো থাকতে সহায়ক হতে পারে।

দীর্ঘদিন মন খারাপ থাকা, অতিরিক্ত উদ্বেগ বা একাকিত্ব দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেললে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সেলিং সেবা বা শিক্ষার্থী সহায়তাকেন্দ্রের সাহায্য নিন।

বিদেশে নতুন পরিবেশ ও সংস্কৃতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সেবা কনসালটেন্সি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, বিদেশে গিয়ে শিক্ষার্থীরা সাধারণত ভাষা, খাবার ও সংস্কৃতির পার্থক্যের মুখোমুখি হন। মানিয়ে নিতে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা, খাবার ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, একাকিত্ব কাটাতে বাংলাদেশি কমিউনিটির সাথে যোগাযোগ রাখা, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করা এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি সবার সাথে ভালো আচরণ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা প্রয়োজন।

পড়াশোনার নতুন ধরনে অভ্যস্ত হন

বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের আলোচনা, দলগত কাজ, গবেষণা, উপস্থাপনা ও স্বাধীনভাবে শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। তাই শুধু পরীক্ষার আগে পড়ার বদলে নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা লিখে রাখুন, ক্লাসের নোট গুছিয়ে রাখুন এবং কোনো বিষয়ে সমস্যা হলে শিক্ষক বা সহপাঠীর সাহায্য নিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সহায়তাকেন্দ্রও কাজে লাগাতে পারেন।

নতুন দেশে মানিয়ে নিতে নিজেকে সময় দেওয়া জরুরি। শুরুতেই সবকিছু বুঝে ফেলা কিংবা সবার সাথে বন্ধুত্ব তৈরি করা সম্ভব না-ও হতে পারে। অন্যের অভিজ্ঞতার সাথে নিজের পরিস্থিতির তুলনা না করে ছোট ছোট অগ্রগতিতে মনোযোগ দিন।

নিজের সংস্কৃতি ও পরিচয় ধরে রেখেও নতুন পরিবেশ থেকে শেখা যায়। ধৈর্য, কৌতূহল এবং প্রয়োজনের সময় সাহায্য চাওয়ার মানসিকতাই বিদেশে নতুন জীবন গড়ে তোলার পথে সহায়ক হতে পারে।