সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, শ্রীলঙ্কার নাগরিকের সাজা বাতিল
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:২৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় দেশটির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একই দিনে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া শ্রীলঙ্কার এক নাগরিকের সাজা বাতিলের ঘটনায় দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে তুলনা শুরু হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর মক্কায় মসজিদের ভেতরে কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বাংলাদেশি নাগরিক নাজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে কী ঘটেছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ ছিল এবং বিচারপ্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো চেয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের জেদ্দা কনস্যুলেট জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাদের এ বিষয়ে জানানো হয়নি। ঘটনার পর সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য চেয়ে কূটনৈতিক নোট পাঠানো হয়। ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চায়।
শ্রীলঙ্কার নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড বাতিল
অন্যদিকে, সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া শ্রীলঙ্কার নাগরিক আনোজান শিবরাসার সাজা বাতিল করেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। প্রথমে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও আপিলের পর তাঁর মৃত্যুদণ্ড হয়।
শ্রীলঙ্কা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির কূটনৈতিক ও আইনি তৎপরতার পর ১৩ অক্টোবর সৌদি আরবের সর্বোচ্চ আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করে। এ ঘটনায় সৌদি সরকার, কূটনীতিক ও আইনি দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার।
তবে সাজা বাতিলের অর্থ শিবরাসা মুক্তি পেয়েছেন বা তাঁর বিরুদ্ধে মামলা পুরোপুরি শেষ হয়েছে—এমন নয়। তাঁর মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য প্রয়োজন।
দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
দুই ঘটনার তুলনায় প্রবাসীদের সুরক্ষায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শ্রীলঙ্কা সরকার নিজ নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড বাতিলে কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ নিয়েছে। বিপরীতে, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশি মিশনকে জানানো হয়নি বলে জানিয়েছে কনস্যুলেট।
তবে এ ঘটনায় বাংলাদেশের দূতাবাস বা কনস্যুলেট কোনো উদ্যোগই নেয়নি—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট নথি ও বক্তব্য যাচাই করা জরুরি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি কর্তৃপক্ষ আগে বাংলাদেশি বন্দিদের একটি তালিকা দিয়েছিল। সেখানে ওই দুই ব্যক্তির নাম থাকলেও তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের তথ্য উল্লেখ ছিল না বলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী কাজ করেন এবং তাঁদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাই বিদেশে আটক বাংলাদেশিদের আইনি সহায়তা, বিচারপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ এবং মৃত্যুদণ্ডের মতো গুরুতর শাস্তির ক্ষেত্রে যথাসময়ে তথ্য পাওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পূর্ণ বিবরণ, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের নথি এবং বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার পরই এ ঘটনায় দায়িত্ব ও কূটনৈতিক তৎপরতার মূল্যায়ন আরও স্পষ্ট হবে।



