হ্যালো, মোহাম্মদ’-নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্পের কৌতুক

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০২৬

মুসলিম বিশ্বে ‘মোহাম্মদ’ নামের ব্যাপক প্রচলন নিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর কৌতুকে নির্বাচনি সমাবেশে উপস্থিত জনতার কাছ থেকে তেমন সাড়া মেলেনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডালটন শহরে এক নির্বাচনি সমাবেশে ইরানের প্রেসিডেন্ট পদ নিয়ে কথা বলার সময় এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের কারও নাম নিয়ে সন্দেহ হলে শুধু “মোহাম্মদ” বলে ডাকুন। আপনার প্রায় ৬৫ শতাংশ সম্ভাবনা থাকবে ঠিক হওয়ার। বলুন, “হ্যালো, মোহাম্মদ”। আমি বছরের পর বছর ধরে এমনটা করে আসছি। কখনো ভুল হয়নি।’

মুসলিম বিশ্বে ‘মোহাম্মদ’ পুরুষদের অন্যতম প্রচলিত নাম। ইসলামের মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নাম অনুসরণ করে বহু মুসলিম পরিবার তাঁদের ছেলেসন্তানের নাম এ নামে রাখেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট পদ নিয়েও কৌতুক

ডালটন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের একটি বিমানের হ্যাঙ্গারে আয়োজিত ওই সমাবেশে ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছিলেন ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালাতে সেখানে যান তিনি।

ইরানের প্রেসিডেন্ট পদ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানই একমাত্র দেশ, যেখানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চায় না।’

এরপর ‘মোহাম্মদ’ নামের কয়েকজন কাল্পনিক ব্যক্তিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হতে চান কি না, এমন প্রশ্ন করার ভঙ্গি করেন তিনি। তবে তাঁর এই ঠাট্টায় উপস্থিত জনতার প্রতিক্রিয়া ছিল অনেকটাই ম্লান।

ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ২০২৪ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।

মুসলিমদের নিয়ে মন্তব্যে আগেও সমালোচনা

ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে অতীতেও মানবাধিকারকর্মী ও মুসলিম অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, তাঁর কিছু মন্তব্যে মুসলিম, অভিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারের সময় মুসলিম ও সোমালি বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক সমর্থকদের কাছে আবেদন তৈরির চেষ্টা হলেও তা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে হেয় করতে পারে।

আমেরিকাভিত্তিক কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর) এক প্রতিবেদনে দেশটিতে ইসলামবিদ্বেষ বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ এবং ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ দমনের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করা হয়।