বন্ধ হবে অবৈধ মোবাইল ফোন, দুই ধাপে কাজ করবে বিটিআরসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩:২৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০২৬

দেশে অবৈধ ও চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে অবৈধ হ্যান্ডসেট শনাক্ত করে সেগুলোর ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

সম্প্রতি বিটিআরসির কমিশন সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। হ্যান্ডসেট শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের এ ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করতে এটি হবে বিটিআরসির তৃতীয় উদ্যোগ। এর আগে ২০২১ সালে পরীক্ষামূলকভাবে এনইআইআর চালু হয়েছিল।

প্রথম ধাপে যা থাকছে

বিটিআরসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপে এনইআইআরের মূল সুবিধাগুলো চালু হবে। এর মাধ্যমে অবৈধ ফোন শনাক্ত করে সেগুলোর ব্যবহার ও বেচাকেনা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হবে। তবে একই আইএমইআই নম্বর ব্যবহার করে একাধিক ফোন চালানোর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ক্লোন হ্যান্ডসেট প্রথম ধাপে পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

দ্বিতীয় ধাপে নিবন্ধন বাতিলের সুবিধা

দ্বিতীয় ধাপে মোবাইল ফোনের নিবন্ধন বাতিল বা ডি-রেজিস্ট্রেশন সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ফোনের প্রকৃত মালিক শনাক্ত করা এবং মালিকানা পরিবর্তনের তথ্য হালনাগাদ করা সহজ হবে। তবে এ ধাপ চালুর বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

বিটিআরসির সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত ক্লোন হ্যান্ডসেটের সমস্যার স্থায়ী সমাধানও পরবর্তী ধাপে করার আশা করা হচ্ছে।

সচল ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত

বর্তমানে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে সচল ফোনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনইআইআরে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া আমদানিকারকদের কাছে থাকা অবিক্রীত হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এনইআইআর ব্যবস্থা চালুর আগে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে অন্তত দুই মাস প্রচার চালানোর পরিকল্পনা করেছে বিটিআরসি।

তাড়াহুড়া করতে চায় না সরকার

প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ গণমাধ্যমকে বলেন, অবৈধ ফোনের ব্যবহার বন্ধ করতে চায় সরকার। তবে এ বিষয়ে তাড়াহুড়া করা হবে না। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর সমাধান বের করা হবে, যাতে আগের মতো উদ্যোগটি ব্যর্থ না হয়।

ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), সরকার ও গ্রাহক—সবার স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।