নজরুল-সুইটির মৃত্যুদণ্ড: সৌদির কাছে রায়ের কপি চাইল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০২৬

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মামলার বিস্তারিত বিবরণ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার তথ্য জানতে দেশটির সরকারকে আবারও কূটনৈতিক পত্র দিয়েছে বাংলাদেশ। সৌদি আরবের পাঠানো বন্দি তালিকায় তাঁদের নাম থাকলেও কী সাজা দেওয়া হয়েছিল, তা উল্লেখ ছিল না।

সোমবার জেদ্দায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহেরির সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি তোলেন বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন। তবে বৈঠকে এ বিষয়ে সৌদি কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। পরে একই দিন দুই বাংলাদেশির মামলার বিবরণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বিস্তারিত জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষকে আবারও কূটনৈতিক পত্র দেয় বাংলাদেশ।

আগেও কূটনৈতিক পত্র দিয়েছিল বাংলাদেশ

গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানায়। পরদিন ১৫ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট তাঁদের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কূটনৈতিক পত্র দেয়। এরপর ১৮ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছেও একই বিষয়ে কূটনৈতিক পত্র দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সর্বশেষ পত্রে যত দ্রুত সম্ভব দণ্ডিত দুই বাংলাদেশির মামলার বিস্তারিত তথ্য, রায়ের বিবরণ এবং বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৩ সালের আগস্টে গ্রেপ্তারের পর যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিম্ন আদালত প্রথমে দুজনকে দণ্ড দেন। পরে ১৩ বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত আপিল আদালতের প্যানেল তাঁদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। আদালতের রায় অনুসরণ করে নারী ও পুরুষের জন্য নির্ধারিত পৃথক সেলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

রায়ের কপি পাওয়ার অপেক্ষায় ঢাকা

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, রায়ের কপি হাতে পেলে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে জানানো এবং পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাওয়ার পর বাংলাদেশ বিষয়টি পর্যালোচনা করবে এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।

এখন সৌদি আরবের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা। দুই বাংলাদেশির মামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।