ইউরোপ থেকে বহিষ্কৃত অভিবাসীদের রুয়ান্ডায় পাঠানোর পরিকল্পনা

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:২০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

ইউরোপে আশ্রয়ের আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়া অভিবাসীদের রুয়ান্ডায় পাঠানোর জন্য ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপনের পরিকল্পনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পাঁচটি দেশ। জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, গ্রিস ও নেদারল্যান্ডসের উদ্যোগে ২০২৭ সালে এ কেন্দ্র চালু হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।

ইনফোমাইগ্র্যান্টসের ২১ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। নভেম্বরের মাঝামাঝি এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে দেশগুলোর। প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশ থেকে প্রায় ২০ জন করে আশ্রয়প্রত্যাশীকে রুয়ান্ডায় পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁদের বেশির ভাগই প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ হতে পারেন।

কী এই ‘রিটার্ন হাব’

‘রিটার্ন হাব’ হলো ইউরোপের বাইরে স্থাপিত এমন কেন্দ্র, যেখানে আশ্রয়ের আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হলেও নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি—এমন অভিবাসীদের রাখা বা স্থানান্তর করা হতে পারে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের ইউরোপের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসন নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

পরিকল্পনাটি নিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের প্রতিনিধিরা কয়েকটি আলোচনায় পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নিয়েছেন। তবে এ উদ্যোগের বিষয়ে কমিশন সরাসরি কোনো অবস্থান জানায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ

প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি নিয়ে মানবাধিকার ও অভিবাসীদের নিরাপত্তা বিষয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, ইউরোপের বাইরে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করা হলে সেখানে অভিবাসীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হবে, তাঁদের অধিকার কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ গন্তব্য কী হবে—এসব বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে।

বামপন্থী রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, ইউরোপীয় কাউন্সিল এবং অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন পিকুম (PICUM) এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁও পরিকল্পনাটির সমালোচকদের মধ্যে রয়েছেন।

রুয়ান্ডার এক কর্মকর্তা কেন্দ্রটিকে ‘রিসেপশন সেন্টার’ বা অভ্যর্থনা কেন্দ্র হিসেবে অভিহিত করার পক্ষে মত দিয়েছেন। সেখানে অভিবাসীদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার কথাও বিবেচনায় রয়েছে।

রুয়ান্ডা ছাড়াও উগান্ডা ও উজবেকিস্তানের মতো দেশকে সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে আলোচনায় আনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আগেও রুয়ান্ডা পরিকল্পনা নিয়েছিল যুক্তরাজ্য

ইউরোপের বাইরে অভিবাসীদের পাঠানোর উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যও আশ্রয়প্রার্থীদের রুয়ান্ডায় পাঠানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। তবে আইনি জটিলতার মুখে পরবর্তী সময়ে কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন সরকার সেই পরিকল্পনা বাতিল করে।

এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির সময় আমেরিকাও তৃতীয় কোনো দেশে বহিষ্কৃত অভিবাসীদের পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

তবে ইউরোপের পাঁচ দেশের প্রস্তাবিত ‘রিটার্ন হাব’ বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করছে চলমান আলোচনা ও সম্ভাব্য চুক্তির ওপর। পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে ইউরোপের অভিবাসননীতি এবং আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে।