ইউরোপের দুই দেশের পার্লামেন্টে ইসরায়েলপন্থী কমিটি গঠন

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৬:৪০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

ইউরোপের ভূমধ্যসাগরীয় দেশ গ্রিস ও সাইপ্রাসের পার্লামেন্টে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে ইসরায়েলপন্থী উদ্যোগ জোরদার হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দুই দেশের পার্লামেন্টে সহযোগিতামূলক কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ইসরায়েল, গ্রিস ও সাইপ্রাসের মধ্যে সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে তুরস্ক।

গ্রিক-শাসিত সাইপ্রাসের পার্লামেন্টে ইসরায়েলপন্থী সংগঠন ইসরায়েল অ্যালাইস ফাউন্ডেশনের (আইএএফ) স্থানীয় শাখা গঠন করেছেন দেশটির তিনটি রাজনৈতিক দলের ছয় আইনপ্রণেতা। দলগুলো হলো ডানপন্থী ডিআইএসওয়াই, মধ্যপন্থী ডিআইকেও এবং জাতীয়তাবাদী ইএলএএম।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সির বরাতে মিডল ইস্ট আই জানায়, গত ১৪ অক্টোবর সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোদুলিদেসের সঙ্গে বৈঠকের পর দেশটির পার্লামেন্টে এ উদ্যোগের ঘোষণা দেন আইএএফের প্রেসিডেন্ট জশ রেইনস্টাইন।

এর কয়েক দিন পর গত বুধবার সাইপ্রাস সফর করে মার্কিন-ইসরায়েলপন্থী লবিং সংগঠন আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির (আইপ্যাক) একটি প্রতিনিধিদল। সংগঠনটির বিদায়ি প্রেসিডেন্ট বার্নার্ড কামিনেৎস্কি ও পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনীত ইয়েহুদা নিউবার্গারের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলটি সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ইসরায়েল, সাইপ্রাস ও আমেরিকার মধ্যে নিরাপত্তা অংশীদারি জোরদার করাই ছিল ওই সফরের ঘোষিত উদ্দেশ্য।

আইএএফের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাইপ্রাসে নিযুক্ত ইসরায়েলের নতুন রাষ্ট্রদূত সুলি দাভিদোভিৎস বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই গভীর হচ্ছে। কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অভিন্ন মূল্যবোধ, পারস্পরিক নিরাপত্তাস্বার্থ এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরে স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ অঞ্চল গড়ে তোলার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এ সম্পর্কের ভিত্তি।

তুর্কি সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের তথ্য অনুযায়ী, সাইপ্রাসের পার্লামেন্ট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডিআইএসওয়াই দলের জর্জ কারুল্লাস ও হারালাম্বোস পেত্রিদেস, ইএলএএম দলের সোতেরিস ইয়োনু ও মারিওস পেলেকানোস এবং ডিআইকেও দলের আন্দ্রেয়াস আপোস্তোলু ও ক্রিসিস পান্তেলিদেস উপস্থিত ছিলেন। পান্তেলিদেস সংগঠনটির স্থানীয় শাখার নেতৃত্ব দেবেন।

অনুষ্ঠানে সাইপ্রাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোস আনাস্তাসিয়াদেস, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভাসিলিস পালমাস, ডিআইকেও সভাপতি নিকোলাস পাপাদোপোলুস এবং সাইপ্রাসে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত জন ব্রেসলোও উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সমর্থন দেওয়ার কারণে সংগঠনটির সমালোচনা হয়েছে। আইএএফের সঙ্গে উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সম্পর্ক রয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরায়েল, গ্রিস ও গ্রিক সাইপ্রাস প্রশাসনের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রেক্ষাপটে নতুন এ উদ্যোগ নেওয়া হলো। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে গ্রিসের সামরিক কর্মকর্তারা জানান, ২০২৬ সালে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তিন পক্ষের যৌথ বিমান ও নৌমহড়া বাড়ানো হবে।

গ্রিক সাইপ্রাস প্রশাসনের ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেনার খবরেও উদ্বেগ জানিয়েছিল তুরস্ক। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলোর ভাষ্য, দ্বীপটির ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করার যেকোনো প্রচেষ্টা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তুর্কি সাইপ্রাসিদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পর আইএএফের প্রেসিডেন্ট জশ রেইনস্টাইন তুরস্ককে দুই দেশের ‘সাধারণ শত্রু’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।