ইউরোপে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের শীর্ষে নেদারল্যান্ডস

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:৩০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিভিন্ন দেশে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করা শিক্ষার্থীদের হারে বড় পার্থক্য রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে নেদারল্যান্ডস। দেশটির ৭৪ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি বা অন্য কোনো কাজে যুক্ত। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডেনমার্ক, যেখানে এ হার ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ। আর ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জার্মানি।

প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

আর্থিক প্রয়োজনেই বেশি কাজ

পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করার অন্যতম প্রধান কারণ আর্থিক প্রয়োজন। তবে শুধু অর্থ উপার্জন নয়, কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন এবং ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতেও শিক্ষার্থীরা চাকরি বা ইন্টার্নশিপে যুক্ত হন।

গবেষণা সংস্থা র‍্যান্ড ইউরোপের গবেষক ম্যাডেলিন নাইটিঙ্গেলের মতে, কিছু শিক্ষার্থী মূলত আর্থিক কারণে কাজ করেন। অন্যরা চাকরি কিংবা অবৈতনিক ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং নিজেদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়াতে চান।

যেসব দেশে শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি কাজ করেন

পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করা শিক্ষার্থীদের হারের দিক থেকে শীর্ষ তিনটি দেশ হলো—

১. নেদারল্যান্ডস—৭৪ দশমিক ৩ শতাংশ
২. ডেনমার্ক—৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ
৩. জার্মানি—৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ

অন্যদিকে, এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম হার রোমানিয়ায়। দেশটিতে মাত্র ২ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করেন। এ তালিকায় পরের অবস্থানে রয়েছে গ্রিস, ৬ শতাংশ, এবং ক্রোয়েশিয়া, ৬ দশমিক ৪ শতাংশ।

চাকরি খুঁজছেন বেশি যেসব দেশের শিক্ষার্থীরা

পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করার হার এবং চাকরি খোঁজার হার এক নয়। চাকরি খুঁজছেন—এমন শিক্ষার্থীদের হারে শীর্ষে রয়েছে সুইডেন। দেশটিতে এ হার ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। এরপর রয়েছে ফিনল্যান্ড, ১০ শতাংশ, এবং ডেনমার্ক, ৯ দশমিক ৬ শতাংশ।

অন্যদিকে, চাকরি খোঁজার হার সবচেয়ে কম রোমানিয়ায়, মাত্র শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। ক্রোয়েশিয়া, চেকিয়া ও হাঙ্গেরিতে এ হার শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ।

বয়স বাড়ার সঙ্গে বাড়ে কর্মসংস্থান

প্রতিবেদনে ২৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের কর্মসংস্থান পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়েছে। এ বয়সী নারীদের কর্মসংস্থানের হার ৬২ শতাংশ এবং পুরুষদের ৭১ দশমিক ৯ শতাংশ।

একই বয়সী নারীদের ১৬ দশমিক ২ শতাংশ শ্রমবাজারের বাইরে ছিলেন এবং আনুষ্ঠানিক শিক্ষায়ও যুক্ত ছিলেন না। পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ৬ দশমিক ৯ শতাংশ।

তথ্যগুলো থেকে বোঝা যায়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করার প্রবণতায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। আর্থিক প্রয়োজনের পাশাপাশি কাজের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগও এ প্রবণতার গুরুত্বপূর্ণ কারণ।