মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বে উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল আজহা
মিনায় হাজিদের পাথর নিক্ষেপ ও কোরবানি
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:২৮ অপরাহ্ণ, মে ২৭, ২০২৬
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আজ বুধবার (২৭ মে ২০২৬) ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ত্যাগের মহিমায় পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। ঈদের জামাত শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে পশু কোরবানি করছেন লাখ লাখ মুসলিম।
ভৌগোলিক কারণে সবার আগে ঈদের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে। এরপর সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়ায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় আল-আজহার মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন পশ্চিমা দেশেও আজ ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। অন্যদিকে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের সাথে মিল রেখে ভারতেও ঈদুল আজহা পালিত হবে।
মিনায় হাজিদের পাথর নিক্ষেপ ও ইহরাম ত্যাগ
হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে আজ বুধবার ভোরে ১৭ লক্ষাধিক মুসলিম হাজি আরাফাত ময়দান থেকে মুজদালিফায় পৌঁছান। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়ে তারা প্রতীকী শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর মারার জন্য নুড়ি সংগ্রহ করেন এবং পুনরায় মিনার তাঁবু নগরীতে ফিরে আসেন।
মিনায় পৌঁছে হাজিরা ‘জামরাত আল-আকাবা’ নামক সবচেয়ে বড় স্তম্ভটিতে সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করেন। ইসলামের নবী হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে স্মরণ করে এই আচারটি পালন করা হয়। পাথর নিক্ষেপ শেষ করে হাজিরা পশু কোরবানি সম্পন্ন করছেন। এরপর পুরুষ হাজিরা মাথা মুণ্ডন এবং নারীরা চুলের কিছু অংশ কাটার মাধ্যমে ইহরামের পবিত্র পোশাক খুলে স্বাভাবিক অবস্থায় (তাহাল্লুল) ফিরবেন।
এরপর হাজিরা মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে (কাবা শরিফ) গিয়ে বিদায়ী তাওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে সাঈ করার জন্য রওনা হবেন। আগামী কয়েকদিন (তাশরিকের দিনগুলো) হাজিরা মিনায় অবস্থান করে বাকি স্তম্ভগুলোতে পাথর নিক্ষেপের আচারটি সম্পন্ন করবেন।
পরিসংখ্যান ও ব্যবস্থাপনা
সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মোট ১৭,০৭,৩০১ জন হজযাত্রী হজে অংশ নিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক হজযাত্রী: ১৫,৪৬,৬৫৫ জন
সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নাগরিক ও বাসিন্দা: ১,৬০,৬৪৬ জন
“আরাফাত থেকে মিনা পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটারের এই পথটিকে বিশ্বের দীর্ঘতম নিয়মিত পদযাত্রার পথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। লাখ লাখ হাজির এই বিশাল পদযাত্রা সৌদি কর্তৃপক্ষের নিবিড় নিরাপত্তা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও আধুনিক যাতায়াত সমন্বয়ের মাধ্যমে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”
বিশ্বের এই বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ উপলক্ষে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও রাষ্ট্রদূতরা মুসলিম উম্মাহকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।



