অভিবাসন সংকটে ইতালি-স্পেন পাল্টাপাল্টি সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৪৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০২৬
ইউরোপে অভিবাসন সংকটকে কেন্দ্র করে ইতালি ও স্পেনের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইতালি থেকে আসা আকাশ ও সমুদ্রপথের যাত্রীদের ওপর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে স্পেন। শুক্রবার রাত থেকে কার্যকর হওয়া এ নিয়ন্ত্রণ এক মাস বহাল থাকবে।
এর আগে ইতালিও একই ধরনের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। লিবিয়া হয়ে মরক্কো থেকে প্রায় ৭৮ হাজার অভিবাসী স্পেনের উত্তর আফ্রিকার উপকূলীয় শহর সেউতায় প্রবেশের পর রোম শেনজেন চুক্তির আওতায় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। ইতালির আশঙ্কা, এসব অভিবাসী ইউরোপের অন্যান্য দেশে প্রবেশ করতে পারে। তবে মাদ্রিদ এ আশঙ্কাকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এ নিয়ে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকারের মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। সানচেজের নেতৃত্বাধীন সরকার ইতালির পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে মেলোনি দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন।
ইতালি জানিয়েছে, তারা কোনো আলটিমেটাম গ্রহণ করবে না এবং অন্তত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ বহাল রাখবে। দেশটির কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ওই সময় সেউতায় নতুন করে অভিবাসীর ঢল নামতে পারে। তবে স্পেন এ ধরনের আশঙ্কার সঙ্গে একমত নয়।
ইতালির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্পেন থেকে যাওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের জন্য অতিরিক্ত কোনো জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে না। মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের নাগরিকদের অতিরিক্ত যাচাই করা হচ্ছে। তবে স্পেনের সংবাদমাধ্যম ‘এল পাইস’ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইতালির বিমানবন্দরগুলোতে দীর্ঘ সারি ও অপেক্ষার সময় বেড়েছে।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইতালি থেকে স্পেনে প্রবেশকারী যাত্রীদের পাসপোর্ট, জাতীয়তা ও ভিসা যাচাই করা হবে। স্পেন সরকার জানিয়েছে, সেউতায় অভিবাসন চাপ অব্যাহত থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কার্যকর থাকবে।
ইউরোপীয় কমিশনের অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বলেছেন, অভিবাসন সংকটের পেছনে অপরাধী চক্রের ভূমিকা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অভিবাসীদের ইউরোপে আসতে উৎসাহিত করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। স্পেনও এ অবস্থানের সঙ্গে একমত।
গত সপ্তাহে সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসীদের বেশির ভাগকেই কয়েক দিনের মধ্যে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ অপ্রাপ্তবয়স্ক এখনো সেখানে অবস্থান করছে।
মরক্কোর দাবি, স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায়ই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। আদালত সেউতা বা মেলিয়ায় প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসীদের সরাসরি ফেরত পাঠানোর সুযোগ সীমিত করেছে। মরক্কোর মতে, এতে সীমান্তে অভিবাসন ঠেকানোর ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
সেউতা ও মেলিয়া নিয়ে স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক বিরোধ রয়েছে। মরক্কো এখনো শহর দুটির ওপর স্পেনের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে না। ফলে অভিবাসন সংকটের সঙ্গে পুরোনো ভূরাজনৈতিক বিরোধ যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।



