হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় ড. ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:১৩ অপরাহ্ণ, জুন ৮, ২০২৬

হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা এবং সময়মতো হাম-রুবেলা টিকা আমদানি না করার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) ঢাকা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জসিতা ইসলামের আদালতে মামলার আবেদন করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান ইকবাল।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ বলেন, মামলার আবেদন জমা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।

মামলার অপর আসামিরা হলেন— স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর।

আবেদনে অভিযোগ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্বে অবহেলা ও সিদ্ধান্তগত ত্রুটির কারণে দেশে হাম-রুবেলা টিকার সংকট তৈরি হয়, যার ফলে বহু শিশু আক্রান্ত ও মৃত্যুর শিকার হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, এ ঘটনায় রাষ্ট্রের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে।

মামলার আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ইউনিসেফের মাধ্যমে হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন টিকা আমদানি করা হতো। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হলে টিকা সরবরাহে জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং সংকট দেখা দেয়।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, টিকা সংকটের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু যথাসময়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আবেদনকারীর দাবি, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত দেশে ৭৫ হাজার ৭০৮ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং সরকারি হিসাবে ৬১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এসব তথ্য আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই সাপেক্ষ।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, দায়িত্বে অবহেলা, ভুল সিদ্ধান্ত এবং যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতার কারণে শিশুদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তাই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য মামলাটির শুনানির অপেক্ষা করা হচ্ছে।