মরক্কো-স্পেন সীমান্তে মানবিক বিপর্যয়, মৃত ৭২

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৬:০০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩, ২০২৬

মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউটা (Ceuta)-য় প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৭২ জনে পৌঁছেছে। সর্বশেষ উপকূল থেকে আরও পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর এ তথ্য জানিয়েছে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী মরক্কো থেকে সেউটায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় অনেকে সাঁতরে সমুদ্র পাড়ি দিতে গিয়ে ডুবে মারা যান, আবার কেউ সীমান্তের বাঁধ ও কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রমের সময় হুড়োহুড়িতে প্রাণ হারান।

স্প্যানিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিপুলসংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশী সেউটায় প্রবেশ করলেও গত দুই দিনে ৪৮ হাজারের বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছেন। সপ্তাহান্তে এ সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে।

সেউটায় স্প্যানিশ সরকারের প্রতিনিধি মিগেল অ্যাঞ্জেল পেরেজ জানান, প্রাণহানির পাশাপাশি এক হাজারের বেশি অভিবাসীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শহরের পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছু সময় লাগবে।

স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব এবং মানবপাচারকারী চক্রের বিভ্রান্তিকর প্রচারণার কারণে অনেক মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ এই যাত্রায় অংশ নিয়েছেন।

অন্যদিকে মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্পেনের ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে ১১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি তারা নিশ্চিত করেছে। সীমান্তের অন্য প্রান্তে আরও যেসব মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নতুন করে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে স্পেন সরকার সেউটার তারাঝাল (Tarajal) সীমান্তসংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ ভাসমান প্রতিবন্ধক স্থাপন করেছে। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনীও মোতায়েন রয়েছে।

সাম্প্রতিক এই ঘটনা ইউরোপে অভিবাসন সংকট নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে মানবপাচার রোধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর দাবি জোরালো হচ্ছে।