পেশাগত ফিটনেস পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করছে সৌদি আরব
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:৪২ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২৬
সৌদি আরবে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য পেশাগত ফিটনেস পরীক্ষা এবং নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ (এনসিডি) স্ক্রিনিং বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।
সৌদি গেজেটের খবরে বলা হয়েছে, নতুন নীতিমালা তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে চাকরিতে যোগদানের আগে কর্মীদের স্বাস্থ্য ও সক্ষমতা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। নিয়োগকর্তাদের পরীক্ষার ফল অনুমোদিত ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মে আপলোড করতে হবে। এ ধাপ কার্যকর হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে নতুন নিয়মের আওতায় আসতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপে ১২ মাসব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে বিদ্যমান কর্মীদেরও পরীক্ষার আওতায় আনা হবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ খাতে কর্মরতদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সব প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
তৃতীয় ধাপে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি কোম্পানি ও অলাভজনক সংস্থাসহ সব কর্মক্ষেত্রে নিয়মটি পুরোপুরি কার্যকর হবে। স্থায়ী, অস্থায়ী, মৌসুমি, প্রশিক্ষণার্থী, প্রতিবন্ধী এবং দূরবর্তী কর্মী—সবাইকে এই পরীক্ষার আওতায় আনা হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো কর্মী নির্ধারিত পেশাগত সক্ষমতার মান পূরণ করতে ব্যর্থ হলে তিনি বর্তমান দায়িত্বে বহাল থাকতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তার জন্য উপযুক্ত বিকল্প পেশা বা দায়িত্ব নির্ধারণ করতে হবে। তবে অতিরিক্ত পরীক্ষা বা পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়া চাকরিপ্রার্থী বা নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীরা পরীক্ষার ফল অনুমোদিত হওয়ার আগে কাজে যোগ দিতে পারবেন না। কর্মরত অবস্থায়ও বিশেষ পরিস্থিতিতে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে। যেমন—কর্মস্থলে দুর্ঘটনা, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা, পেশা পরিবর্তন বা কর্মপরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটলে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন এই উদ্যোগের লক্ষ্য কর্মীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি কমানো এবং একটি সমন্বিত পেশাগত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ নীতিমালা সৌদি শ্রমবাজারে কর্মী সুরক্ষা ও পেশাগত নিরাপত্তা আরও জোরদার করবে।



