গুজবে মরক্কো থেকে স্পেনে জনস্রোত, প্রাণ গেল অন্তত ১৮ জনের

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:১৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২, ২০২৬

মানব পাচারকারী চক্রের ছড়ানো গুজবকে কেন্দ্র করে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউটা সীমান্তে নজিরবিহীন অভিবাসী সংকট তৈরি হয়েছে। মরক্কো থেকে হাজার হাজার মানুষ সাঁতরে ও হেঁটে স্পেনে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতভর সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ে। এরপর হাজারো মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে স্পেনের সেউটায় প্রবেশ করেন। পরিস্থিতি পরিদর্শনে শুক্রবার সকালে সেখানে যান স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।

সেউটার প্রশাসনের প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস জানান, তার ধারণা অনুযায়ী এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে প্রবেশ করেছে। অথচ শহরটির মোট জনসংখ্যা মাত্র ৮৫ হাজার। তিনি বলেন, এত বিপুল সংখ্যক মানুষের চাপ সামাল দেওয়া স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষে সম্ভব নয়।

স্থানীয় শ্রমিক নেতা রাশিদ সবিহি বলেন, এখনো সীমান্ত দিয়ে মানুষ প্রবেশের চেষ্টা করছে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী আহতদের চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তায় কাজ করছে। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর সীমিত সক্ষমতার কারণে অনেকেই আবার মরক্কোয় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

৩১ জুলাই সেউটা সফর শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, এই গণ-অনুপ্রবেশ স্পেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন। তিনি দাবি করেন, মানব পাচারকারী চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি সাম্প্রতিক রায়কে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে পাচারকারীরা প্রচার চালায় যে, সমুদ্রপথে বা সাঁতরে সীমান্ত পার হয়ে আসা ব্যক্তিদের আর ফেরত পাঠানো হবে না। এই গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সীমান্তে হঠাৎ করেই মানুষের ঢল নামে।

এদিকে মরক্কোর উত্তরাঞ্চলীয় ফিনিদিক শহরের কাছে কয়েক হাজার মানুষ স্পেনে প্রবেশের উদ্দেশ্যে জড়ো হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে মরক্কো সরকার। স্পেন জানিয়েছে, মরক্কোর কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে যে পাচারকারী চক্র আদালতের রায়কে অপব্যাখ্যা করে অভিবাসীদের বিভ্রান্ত করেছে।

উল্লেখ্য, উত্তর আফ্রিকার মরক্কো সীমান্তে অবস্থিত স্পেনের দুটি স্বশাসিত অঞ্চল সেউটামেলিলা দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপমুখী অনিয়মিত অভিবাসনের অন্যতম প্রবেশদ্বার। এর আগে ২০২১ সালেও সেউটায় কয়েক দিনের মধ্যে ৮ হাজারের বেশি মানুষ অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করে একই ধরনের সংকট সৃষ্টি করেছিলেন।